গত অর্থবছরে সর্বোচ্চ আমদানি ডিজেল ক্লিংকার মোটরসাইকেল

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রাজস্ব আদায়ের শীর্ষে রয়েছে জ্বালানি তেল তথা হাই স্পিড ডিজেল। এর পরের স্থানে রয়েছে সিমেন্ট ক্লিংকার। আর তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে মোটরসাইকেল।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ কর্তৃক বিদায়ী অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছেÑআমদানি করা পণ্যের তালিকা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আমদানি করা শীর্ষ দশ পণ্যের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে রিফাইন্ড পাম অয়েল। এ তালিকার পঞ্চম স্থান থেকে যথাক্রমে আছে মোটর কার, অপরিশোধিত চিনি, পেট্রোলিয়াম অয়েল, আপেল, ক্রুড অয়েল ও হট রোলড (ইস্পাতের কাঁচামাল)।

কাস্টম সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি করা শীর্ষ ১০টি পণ্যের আটটি পণ্যই ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছে। শীর্ষ দশে নতুন যোগ হয়েছে তালিকার নবম ও দশম স্থানে থাকা ক্রুড অয়েল ও হট রোলড। এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে আগের বছরে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে থাকা সেমি প্রোডাক্টস অব আয়রন ও দশম স্থানে থাকা টেলিকম ইকুইপমেন্ট। এই অর্থবছরে আমদানি করা শীর্ষ দশ পণ্যের আর্থিক মূল্য ৪০ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল হাই স্পিড ডিজেল সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়। এই অর্থবছরে ১৩ হাজার ৭২৩ কোটি টাকার মোট দুই হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন হাই স্পিড ডিজেল আমদানি করে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি প্রতিষ্ঠানসহ অন্যরা। এর আগের অর্থবছরে আমদানি করা হয়েছিল ১১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার এক হাজার ৫৭৬ মেট্রিক টন হাই স্পিড ডিজেল। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিমেন্ট ক্লিংকার (মুসক নিবন্ধিত) আমদানি হয় পাঁচ হাজার ৬১ কোটি টাকার ১৭ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন, যা এর আগের বছর আমদানি হয়েছিল চার হাজার ৭৫৮ কোটি টাকার ১৬ হাজার ৮৪৪ মেট্রিক টন। এই আমদানি করা পণ্য দুটি আগের স্থান ধরে রাখলেও তৃতীয় স্থানে নতুন জায়গা করে নিয়েছে মোটরসাইকেল (সিকেডি)।

বিদায়ী অর্থবছরে এক হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার মোটরসাইকেল আমদানি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যা এর আগের অর্থবছরে আমদানি করা হয়েছিল ৮৫৭ কোটি টাকা। আগের স্থান হারিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে রিফাইন্ড পাম অয়েল। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ৩৪ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন রিফাইন্ড পাম অয়েল আমদানি করা হয়, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ছয় হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল সাত হাজার ২২৭ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন।

মোটরকার আমদানি করা শীর্ষ দশ পণ্যের তালিকায় আগের স্থান দখল করে আছে। গত অর্থবছরে ৮২৮ কোটি টাকার মোটরকার আমদানি করা হয়। এর আগের বছর আমদানি হয়েছিল ৮১০ কোটি টাকার। এই তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে আদান ক্যান সুগার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলে এই অর্থবছরে দুই হাজার দুই কোটি টাকার ২০৫ মেট্রিক টন চিনি আমদানি করে। এর আগের বছর আমদানি হয়েছিল দুই হাজার ১৯৯ কোটি টাকার ২১১ মেট্রিক টন।

আমদানি করা পণ্যের সেরা দশে এক ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে আছে পেট্রোলিয়াম অয়েল। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলে এই অর্থবছরে তিন হাজার ৭৪৭ টাকার পেট্রোলিয়াম অয়েল আমদানি করে, যেক্ষেত্রে এর আগের বছর আমদানি করা হয়েছিল দুই হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।

শীর্ষ দশের একই স্থান আটে আছে আমদানি করা পণ্য আপেল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আপেল আমদানি করা হয়েছে ৮৮০ কোটি টাকার ১১২ লাখ ১৮ হাজার ৭০১ মেট্রিক টন, যা এর আগের বছর আমদানি হয়েছিল ৮১৪ কোটি টাকার।

এই তালিকার নবম ও দশম স্থানে আছে ক্রুড অয়েল ও হট রোলড। ক্রুড অয়েল ও হট রোলড এই তালিকায় নতুন করে স্থান পেয়েছে। ক্রুড অয়েল এই অর্থবছরে আমদানি হয়েছে চার হাজার ৪২৭ কোটি টাকার। হট রোলড আমদানি করা হয়েছে দুই হাজার ১৮৩ কোটি টাকার ৩৯ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন।

উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ কাস্টম হাউজ দিয়ে দেশের আমদানি বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশ এবং রফতানি বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়।