সারা বাংলা

গবেষণা ও প্রকাশনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ ঘটে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: গবেষণা ও প্রকাশনার মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ ঘটে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে ছাত্ররা কেউ কম্পিউটার সায়েন্স, কেউ ব্যবসায় প্রশাসন আর কেউ আইন বিষয়ে পড়তে চায়। বিজ্ঞানের ছাত্র হতে চায় কম। এ জন্য এখন গবেষণা কমে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণ করে গবেষণার ওপর। আমাদের সময়ে অভিভাবকরা ভালো ছাত্রদের রসায়ন, পদার্থ এগুলোই পড়াতেন। গবেষণার ওপর বিশেষ করে রসায়ন বিভাগের আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণার জন্য আরও ফান্ড সরকারের কাছে চাওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যার ওপর রেটিং হয় না। গবেষণার মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য উচ্চতায় যেতে পারে। আমেরিকার কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে এত গবেষণা হয়, সেখান থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আমি মনে করি, রসায়ন পড়ার পর চাকরির অনেক সুযোগ রয়েছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৫০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
দু’দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শিরীন আখতার, চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম, সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মনির উদ্দিন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নেতৃত্বের বিকাশের জন্য ছাত্র সংসদের কোনো বিকল্প নেই। আমি আজকের অবস্থানে কখনও আসতে পারতাম না, যদি স্কুলের শিক্ষা না থাকত। আমি চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলের ছাত্র। সেখানে বক্তৃতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা হতো। এ বিশ্ববিদ্যালয়েও আমি যখন ছাত্র, তখন ন্যাশনাল টেলিভিশন ডিবেট হতো। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্মানজনক একটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি সোহরাওয়ার্দী হলের বিতর্ক দলের দলনেতা ছিলাম। আমি স্কুলের বিতর্ক দলের দলনেতা ছিলাম। স্কুল যদি আমাকে শিক্ষা না দিত, তাহলে আমার পক্ষে আজকের অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। আমি আশা করব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও শিগগিরই চাকসুর নির্বাচন হবে।’
তিনি বলেন, ’৮০-র দশকে মালয়েশিয়ার ছাত্ররা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে আসত। এখন আমাদের ছেলেরা সেখানে পড়তে যায়। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছতো বাংলাদেশ। এরপরও আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটাকে উন্নয়নে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ‘তার নেতৃত্বে সব সূচকে পাকিস্তান থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রফতানি আয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার আর পাকিস্তানের ২৪ বিলিয়ন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় এক হাজার ৮০০ ডলার আর পাকিস্তানের এক হাজার ৬৪০ ডলার। বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭২ দশমিক আট বছর সেখানে পাকিস্তানে ৬৮ বছর।’
চবিতে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে যেন প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমেরিকান কর্নেল ইউনিভার্সিটির মিল আছে।

সর্বশেষ..