গরুর দুধ ও দইয়ে সিসা কীটনাশক অ্যান্টিবায়োটিক

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে গোখাদ্যের শতকরা ৬৯ থেকে ১০০ ভাগে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে আছে পেস্টিসাইড, ক্রোমিয়াম, টেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লেক্সাসিন, সিপ্রোসিন ও আলফাটক্সিন। আর এ খাবার খাওয়ানোয় গরুর দুধ (খোলা), প্যাকেটজাত দুধ ও দইয়ে বিভিন্ন পরিমাণে পেস্টিসাইড, টেট্রাসাইক্লিন, সিসা ও বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীব পাওয়া গেছে।
গতকাল রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) আইএসও সনদ অর্জন এবং দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবারের মানসম্পর্কিত গবেষণা কাজের ফলাফল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহযোগিতায় গাভীর খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেট দুধ নিয়ে সম্প্রতি এক জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করে এনএফএসএল। এজন্য ঢাকাসহ তিন জেলার ছয় উপজেলার ১৮ স্থান থেকে ৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে গাভীর খাবার ও দুধ সরাসরি খামার থেকে সংগ্রহ করা হয়। আর দই রাজধানীর বিভিন্ন নামকরা দোকান ও আশপাশের উপজেলার দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
এছাড়া বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধ এবং আমদানি করা প্যাকেট দুধ বিভিন্ন সুপার স্টোর থেকে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট নিয়মে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, প্রায় সব গোখাদ্যে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কীটনাশকও মিলেছে কোনো কোনো খাবারে। সিসা ও ক্রোমিয়ামও আছে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এগুলো। এছাড়া সিসা ও ক্রোমিয়াম ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।
গোখাদ্যের ৩০টি নমুনা গবেষণা শেষে দেখা গেছে, এর মধ্যে কীটনাশক (দুটি নমুনায়), ক্রোমিয়াম (১৬টি নমুনায়), টেট্রাসাইক্লিন (২২টি নমুনায়), এনরোফ্লোক্সাসিন (২৬টি নমুনায়), সিপ্রোসিন (৩০টি নমুনায়) এবং আফলাটক্সিন (চারটি নমুনায়) গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।
গাভীর দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯ শতাংশ দুধে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কীটনাশক, ১৩ শতাংশে টেট্রাসাইক্লিন ও ১৫ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া যায়। ৯৬ শতাংশ দুধে মেলে বিভিন্ন অণুজীব।
প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনায় ৩০ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি হারে আছে টেট্রাসাইক্লিন। একটি নমুনায় সিসা মিলেছে। একই সঙ্গে ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশ দুধের নমুনায় বিভিন্ন অণুজীব পাওয়া গেছে। দইয়ের ৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে একটিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা পাওয়া গেছে। আর ৫১ শতাংশ নমুনায় মিলেছে বিভিন্ন অণুজীব।
এদিকে গাভীর দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অণুজীবও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভীর দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এই পণ্যেও মিলেছে সিসা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ তিন বছরের পরিক্রমায় এনএফএসএল গত ২৫ অক্টোবর আইএসও সনদ অর্জন করে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য পরীক্ষাগার হিসেবে প্রথম। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্যের পরীক্ষাসংক্রান্ত রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং রফতানি পণ্যের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাপতি প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক নির্মল সেন প্রমুখ।