গলাকাটা মসজিদ

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনেক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনই একটি দর্শনীয় স্থান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বারোবাজার। কালের বিবর্তনে টিকে থাকার পাশাপাশি গৌরবভরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এখানকার কীর্তিগুলো। এগুলোর একটি গলাকাটা মসজিদ। এ বিষয়ে জানাচ্ছেন মো. হাসানুজ্জামান পিয়াস

গলাকাটা মসজিদটি ইসলামি স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশের পুরাকীর্তিকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশাল আকৃতির গলাকাটা মসজিদটি ১৬শ শতকে নির্মিত। বাগেরহাটের ষাটগম্বুজের মতো দেখতে এটি। মসজিদটিতে ছয়টি গম্বুজ রয়েছে।

ঝিনাইদহের বারোবাজার থেকে তাহেরপুর যেতে প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত গলাকাটা মসজিদ। এর পাশে রয়েছে একটি বিশাল দিঘি। এটি গলাকাটা দিঘি নামে পরিচিত। বর্গাকার মসজিদটি চারটি ছয়কোনাকৃতি পিলারের ওপর স্থাপিত। ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে এ মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি প্রবেশদ্বার। ভেতরে পশ্চিমের দেওয়ালে তিনটি মেহরাব আছে। এগুলো পোড়ামাটির, নানা কারুকাজের। এছাড়া কালো পাথরের আট ফুট উচ্চতার দুটি স্তম্ভ আছে। পোড়ামাটির জ্যামিতিক নকশাও স্থান পেয়েছে মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের মেহরাবে।

নব্বইয়ের দশকে প্রতœতত্ত¡ অধিদফতর কর্তৃক খননের মাধ্যমে মাটিচাপা পড়া মসজিদটি খনন করা হয়। এর ২০০ গজ দূরত্বের মধ্যে রয়েছে আরও দুটো মসজিদ। মসজিদের এমন নামকরণের কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

যাওয়ার উপায়

রাজধানী থেকে খুব সহজে এখানে যাওয়া যায়। যশোরের অদূরে বারোবাজারের অবস্থান, দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। রাজধানী থেকে বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাসে প্রথমে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় যেতে হবে। দূরপাল্লার বাসের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ লাইন, দর্শনা ডিলাক্স, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, রয়েল ও সোনার তরী। চাইলে ট্রেন কিংবা বিমানেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে যশোরে নামতে হবে। যশোর থেকে সরাসরি বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় বারোবাজার যেতে পারেন।