সারা বাংলা

গাইবান্ধায় পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে দুর্ভোগ; বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। জেলার প্রায় সাড়ে তিনশ’র বেশি গ্রামের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দি হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। খবর: বিডিনিউজ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘটের পানি ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি এক সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু জেলার ২১টি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় একাধিক গ্রামে পানি ঢুকে পড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় বলছে, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার দুটি পৌরসভাসহ ৫১টি ইউনিয়নের ৩৯০টি গ্রামের পাঁচ লাখ ১৪ হাজার সাড়ে ৮৯ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, যাদের ৪৫ হাজার ৪৯৫টি বসতবাড়ি পানির নিচে। পানিবন্দি ৭৪ হাজার ১৬৯ মানুষ জেলার ১৮৪টি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ২৩৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৬৩ কিলোমিটার বাঁধ ও ২১টি কালভার্ট। ডুবে গেছে ১১ হাজার ৯২৮ হেক্টর বিভিন্ন ফসলি জমি।
পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৪০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভেসে গেছে ছয় হাজার ৬৫৮টি পুকুরের মাছ। ডুবে গেছে হয়েছে ৯ হাজার ২২৪টি টিউবওয়েল। বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে ৭৫টি মেডিক্যাল টিম।
এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার কৈতকিরহাট এলাকায় শুক্রবার রাতে প্রায় ১০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ দুই শতাধিক ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে দেবে গেছে। শনিবার রাতে গোবিন্দগঞ্জের হরিরামপুর ইউনিয়নের নয়াপড়া এলাকায় বাঙালি নদীর বাঁধ ভেঙে নতুন করে আরও পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়া গাইবান্ধা শহরেরও অধিকাংশ রাস্তাঘাট, প্রধান দুটি কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান, সরকারি-বেসরকারি একাধিক অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। বাঁধ, সড়ক, নৌকা ও উঁচু স্থানসহ ১৮৪টি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষ খাদ্য, সুপেয় পানি ও শৌচাগার সমস্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গাইবান্ধা রেলস্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম জানান, সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলরুটের গাইবান্ধা সদরের বাদিয়াখালি থেকে ত্রিমোহিনী পর্যন্ত রেলপথের প্রায় ছয় কিলোমিটার অংশ ডুবে গিয়ে কিছু স্থানে সিøপার, পাথর ও মাটি সরে যাওয়ায় গত বুধবার থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলস্টেশন থেকে সান্তাহার এবং গাইবান্ধা রেলস্টেশন থেকে লালমনিরহাট ও দিনাজপুরের মধ্যে ট্রেন চলাচল করছে।
জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, বন্যাকবলিত উপজেলাগুলো জেলা ত্রাণভাণ্ডার থেকে এক হাজার টন চাল ও ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছয় হাজার কার্টন শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */