গাজীপুরের কয়েকটি রিসোর্ট

বেড়াতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই ভার! কর্মব্যস্ত জীবনে একটু প্রশান্তি পেতে সবাই ছুটে যেতে চান কোনো সবুজ প্রান্তরে। কিন্তু ব্যস্ত এই জীবনে মানুষের এত সময় কোথায় দূরে হারিয়ে যাওয়ার? তাই ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে দূরে কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠে না। এর মধ্য দিয়েও যদি সবুজের সান্নিধ্য পাওয়া যায়, তবে কেমন হয়? তেমনি কয়েকটি স্থানের কথা জানুন।
অল্প সময়ের মধ্যে ঘুরে আসতে পারবেন এই রিসোর্টগুলো থেকে। খুব বেশি দূরে যেতে না চাইলে ঢাকার কাছে গাজীপুর থেকে ঘুরে আসতে পারেন। এখানে গড়ে উঠেছে দারুণ কয়েকটি রিসোর্ট। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ গ্রামীণ পরিবেশে কয়টা দিন কাটিয়ে আসতে পারেন।

অঙ্গনা রিসোর্ট
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে অঙ্গনা রিসোর্টের অবস্থান। সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে অঙ্গনা রিসোর্টটি গড়ে উঠেছে। ২০০৪ সালে ১৮ বিঘা জমির ওপর এটি নির্মাণ করা হয়। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হওয়ায় এই রিসোর্টের নামকরণ করা হয়েছে অঙ্গনা।
দুটি খেলার মাঠ, দুটি বিশালাকার পুকুর ও জলাশয়, একটি সুইমিং পুল, একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও একটি পার্ক রয়েছে। করপোরেট মিটিং, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও ব্রেইন স্টর্মিং বৈঠকের ব্যবস্থাসহ শিশুদের জন্য পুরো ক্যাটারিং সুবিধা রয়েছে এখানে। এই রিসোর্টের সবচেয়ে আকর্ষণ হচ্ছে সুন্দরবনের অপরূপ হরিণ। বিশালাকৃতির দুটি খাঁচায় রয়েছে ১৬টি হরিণ। হরিণের বাচ্চাও রয়েছে কয়েকটি। মাটির ঘর ও একটি ফোয়ারা রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। কয়েকটি বাঁশবাগান পুকুরপাড়ের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি জামে মসজিদসহ রয়েছে দুটি সড়কের নামফলক। এর মধ্যে একটি দীনা লায়লা ও অপরটি এমদাদ সরণি। একটি বাংলোয় ১৪টি কক্ষ রয়েছে।
ভাওয়াল পরগনার লালমাটির পাহাড়বেষ্টিত এই রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা চমৎকার। সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে পুরো রিসোর্ট এলাকায়। প্রাকৃতিকভাবে সাজানো হয়েছে রিসোর্টটি।

কীভাবে যাবেন
নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসযোগে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-কাপাসিয়া মহাসড়কের পাবুররাস্তা নামক স্থানে নামতে হবে। পরে পাবুররাস্তার মোড় থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে যেতে হবে।
রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট
নামটি শুনে মনে হচ্ছে, এত দূরের রাঙামাটি যাব! নাম রাঙামাটি হলেও এই রিসোর্টের অবস্থান ঢাকার গাজীপুরে। গাজীপুরের রাঙামাটি গ্রামের নাম অনুসারে নামকরণ করা হয়েছে রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট। গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত মনোমুগ্ধকর রিসোর্টটি। রাঙামাটির মতো পাহাড়ের দেখা না মিললেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কমতি নেই এখানে।
চারটি পিকনিক স্পট কামিনী,
যামিনী, বিজ ফ্লিড ও এমফি থিয়েটার। সব স্পটে আছে আলাদা আলাদা খেলার মাঠ। সাতটি কটেজ ও আটটি দোতলা ভবন আছে। সব কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এছাড়া আরও রয়েছে মিউজিক ইভেন্ট, বারবিকিউ কর্নার প্রভৃতি। এখানে সব ধরনের খাবার পাওয়া যাবে।

কীভাবে যাবেন
রাজধানীর মহাখালী বা ফার্মগেট থেকে বাসে করে যাবেন চন্দ্রায়। সেখান থেকে টেম্পো বা রিকশায় টাঙ্গাইল রোড ধরে যেতে হবে রাঙমাটি ওয়াটার ফ্রন্টে।

সাবাহ গার্ডেন
গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় সাবাহ গার্ডেন রিসোর্ট অবস্থিত। ৩৬ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্টটি। অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর রয়েছে কিছু বিশেষত্ব। বিখ্যাত ব্যক্তিদের বাণী দিয়ে পুরো রিসোর্টটি সাজানো হয়েছে। মাটির ও টিনের ঘর, সৌন্দর্যমণ্ডিত কয়েকটি কটেজ ও ছয়টি ছোট-বড় পুকুর রয়েছে। এছাড়া বাঘ, হাতিসহ কয়েকটি প্রাণীর প্রতিকৃতিও রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, ঔষুধি ও বনজ গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সাবাহ গার্ডেন রিসোর্টটি।
সবুজের অপূর্ব সমারোহ পর্যটকের চোখ জুড়িয়ে দেয়। এছাড়া রিসোর্টে রয়েছে একটি গ্রন্থাগার। বইপ্রেমীদের খুবই ভালো লাগবে জায়গাটি। বিভিন্ন ধরনের বিখ্যাত বইয়ের মাঝে সহজেই কেটে যাবে অবসর। বিভিন্ন লেখকের বই রিসোর্টটিকে ভিন্ন রূপ এনে দিয়েছে। রয়েছে বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতিও।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে নিজস্ব পরিবহন কিংবা যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘেরবাজার নামতে হবে। সেখান থেকে সহজেই যেতে পারবেন রিসোর্টটিতে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরে আসুন রিসোর্টগুলো থেকে।

শিপন আহমেদ