প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

‘গাসের মূল্য বৃদ্ধিতে সিরামিক পণ্যের দাম বাড়বে ১০%’

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরামিক দেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। দেশে উৎপাদিত সিরামিক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর সিরামিক খাতে মানসম্পন্ন পণ্য রফতানির মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। কিন্তু সম্প্রতি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সিরামিক পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে সিরামিক খাতের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে তৈরি সিরামিক পণ্যের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতায় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) মনে করে। গতকাল বিসিএমইএ’র সচিব জাহেদী হাসান চৌধুরীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জাহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় সিরামিক টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার শিল্পের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে তৈরি সিরামিক পণ্যের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতায় মারাত্মকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সিরামিক একটি গ্যাসনির্ভর শিল্প হওয়ায় পণ্যের মোট উৎপাদন ব্যয়ের সাড়ে সাত শতাংশ জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। শিল্পের জন্য ৩৮ শতাংশ, ক্যাপটিভ পাওয়ারের জন্য ৪৪ শতাংশ ও সিএনজি স্টেশনের জন্য সাড়ে সাত শতাংশ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সিরামিক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় পাঁচ শতাংশ, কাঁচামাল ও তৈরি পণ্যের পরিবহন ব্যয় পাঁচ শতাংশ মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি গড়ে ১০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, বর্ধিত ব্যয় সমন্বয়ে পণ্যের বিক্রয়মূল্য ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না। ফলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না করে অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় কোম্পানিকে বহন করতে হবে বলে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এতে দেশের সম্ভাবনাময় সিরামিক শিল্পের বিকাশের ক্রমবর্ধমান ধারা ব্যাহত হবে। এই সুযোগে বিদেশি পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রসার বাধাগ্রস্ত করবে।
সচিব আরও বলেন, অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রফতানি ও আমদানিতে বিকল্প পণ্য হিসেবে দেশে এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি আট হাজার কোটি টাকার অধিক বিনিয়োগে ৬৬টি (দেশে বর্তমানে ২০টি টেবিলওয়্যার, ২৮টি টাইলসওয়্যার, ১৮টি স্যানেটারিওয়্যার) সিরামিক শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। এই সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে। দেশীয় উৎপাদনকারীরা পণ্য রফতানি করে দেশের জন্য যেমন বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন, তেমনই ক্রমান্বয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ হচ্ছে। দেশীয় সিরামিক শিল্পের স্বার্থে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সূত্রমতে, সম্প্রতি সরকার সব খাতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর মধ্যে আবাসিক খাতে দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা আর এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহস্থালি মিটারে দাম বেড়েছে প্রতি ঘনমিটারে ৯.১০ থেকে ১২.৬০ টাকা। সিএনজির ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ দাম বেড়েছে সাড়ে সাত শতাংশ। এছাড়া বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের জন্য এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্যাপটিভ পাওয়ার, শিল্প ও চা বাগানে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত আছে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম। গড়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৭.৩৮ থেকে ২.৪২ টাকা বাড়িয়ে ৯.৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গড়ে দাম বেড়েছে ৩২ দশমিক শূন্য আট শতাংশ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলএনজির আমদানি খরচ এবং বাংলাদেশের বাজারে গ্যাস বিক্রি থেকে আসা রাজস্ব আয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ হবে ১৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা, যার মধ্যে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হওয়ার কথা আট হাজার ১৬০ কোটি টাকা। এর পরও আরও আট হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে এ খাতে।

 

সর্বশেষ..