সারা বাংলা

গোপালগঞ্জে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষক

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি শ্রমিকের অভাবে মাঠের পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। কেননা জমিতে ধান পেকে গেলেও ঘরে তুলতে পারছেন না তারা।
গোপালগঞ্জে এ বছর ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ ভাগই হাইব্রিড। ইতোমধ্যে ক্ষেতের ৩০ ভাগ ধান পেকেছে। কৃষক ইতোমধ্যেই ২০ ভাগ পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছে। বাকিটা দ্রুত কাটাই-মাড়াই করতে বলেছে কৃষিবিভাগ। কিন্তু শ্রমিক সংকটে মাঠের পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের গৌতম মণ্ডল জানান, ধানকাটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক সংকট শুরু হয়েছে। ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এছাড়া ধানের দামও কমে গেছে। এখন প্রতিমণ ধান ৪২৫ থেকে ৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় থেকে দুই মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। এতে তাদের তেমন কিছুই থাকছে না।
বোড়াশী গ্রামের কৃষক আক্রাম মিনা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক দিয়ে এক বিঘা জমিতে ধান চাষে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ঝড়-বৃষ্টির ভয় আছে। সরকার কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের ব্যবস্থা করলে তারা সহজে ধান ঘরে তুলতে পারতেন।
শ্রমিক সংকটে শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না সেই অনিশ্চয়তার কথা জানালেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুয়াধানা গ্রামের কৃষক মৃনাল কান্তি বিশ্বাস। তিনি জানান, এখন তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে ধান কাটছেন। ধান কাটতে খরচ আছে। ধান বিক্রি করেই এ খরচ মেটানো হয়। এখন ধানের ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। এ সুযোগে ফড়িয়া ও মহাজনরা পানির দামে ধান কিনে মজুদ করে লাভবান হচ্ছে। সরকার যদি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনে তাহলে তারা লাভবান হতেন।
খুলনার কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটার কাজ করেন সদর জেলার আলম সরদারসহ বেশ অনেক কৃষক। সদর আলী জানান, প্রচণ্ড গরমে ধান কাটা, বেঁধে মাথায় করে বাড়ি নেওয়া, পরে মাড়াই করার কাজ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কষ্ট আনুযায়ী পয়সা পাওয়া যায় না। তাই এ কষ্টের কাজ এখন আর কেউ করতে চায় না। সবাই অন্য পেশায় চলে গেছে। তারা মুষ্টিমেয় কয়েকজন ধান কাটতে আসেন। এ কারণে ধানকাটা শ্রমিক সংকট প্রকট হয়েছে।
কৃষকের এই সমস্যার বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত ডিডি হরলাল মধু জানান, কৃষি ফার্মকে যান্ত্রিকীকরণ করা হলে কৃষক এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষেতের ৩০ ভাগ ধান পেকেছে। কৃষক ইতোমধ্যেই ২০ ভাগ পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছে। বাকিটা দ্রুত কাটাই-মাড়াই করতে বলা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, ধান কাটায় শ্রমিক সংকট আছে সত্য, তবে আবাহাওয়া ভালো থাকায় কৃষকরা পরিবারের সবাই মিলে ধান কাটার কাজ করছেন। জেলায় এ বছর ইরি বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করেন তিনি।

সর্বশেষ..