হোম প্রচ্ছদ গ্রাহকের টাকা নিয়ে গায়েব কমফোর্ট হোমস

গ্রাহকের টাকা নিয়ে গায়েব কমফোর্ট হোমস


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

জাকারিয়া পলাশ : মাত্র ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে কক্সবাজারে ফাইভ স্টার হোটেলের একটি রুমের মালিক হওয়ার সুযোগ আর রুমটি ভাড়া দিয়ে বছরে পাঁচ লাখ টাকা আয়ের প্রতিশ্রুতি পাশাপাশি বছরে এক মাস পরিবারপরিজন নিয়ে হোটেলে ফ্রি থাকার সুযোগ এমন লোভনীয় অফার দিয়ে কক্সবাজারে বিশাল পাঁচতারকা হোটেল শুরু করেছিল কমফোর্ট হোমস লিমিটেড বিশাল বিলবোর্ডে পাঁচ তারকা হোটেলের ছবি দিয়ে দুই শতাধিক  গ্রাহকের কাছ থেকে ৭০ কোটি টাকাও নিয়েছিল আর ব্যাংক থেকেও নেওয়া হয়েছিল বড় অঙ্কের ঋণ তারপর প্রকল্পের কাজ কিছুটা করে উধাও প্রতিষ্ঠানটি কেবল কক্সবাজারেই নয়, ঢাকাতেও একাধিক আবাসন প্রতারণা করে বড় ধরনের অর্থ লোপাট করেছে প্রতিষ্ঠানটি

জানা গেছে, আবাসন খাতে বড় বড় প্রকল্প নিয়ে রমরমা ব্যবসা শুরু করেছিল কমফোর্ট হোমস লিমিটেড। ২০১০ সালে ঢাকা চট্টগ্রামের একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে কোম্পানিটি। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ওইসব গ্রাহক তাদের ফ্ল্যাট বা পাওনা আজও বুঝে পাননি। এদিকে কোম্পানির কর্তারা এখন নিখোঁজ। নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহক

জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ওই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন চট্টগ্রামের গোলাম মাহমুদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। সে অনুযায়ী কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিতকমফোর্ট সি স্টারনামে বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করার কথা। জিলাঙ্গা মৌজার বিভিন্ন দাগ মিলিয়ে প্রায় ৮৫ ডেসিমাল জমিতে প্রকল্পটি করছিল কমফোর্ট হোমস। সর্বমোট ৩৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ওই ফ্ল্যাট  কেনার চুক্তি করেন ক্রেতা। শুরুতে দুই লাখ টাকা বুকিংয়ের পর ৪৮টি ইনস্টলমেন্টে প্রায় ৫২ হাজার করে টাকা দিয়েছেন তিনি। সব মিলে তার কাছ থেকে কোম্পানি ৩৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা তুলে নেয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুরো টাকা পরিশোধ করেছেন ক্রেতা। গোলাম মাহমুদ ছাড়াও আরও প্রায় খানেক লোকের কাছ থেকে এভাবে টাকা তুলেছে ওই কোম্পানি

কক্সবাজারের ওই স্থানে দেখা গেছে ভবনটির অস্তিত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে ১৩ তলা ভবন করার কথা থাকলেও পর্যন্ত সাততলার নির্মাণ শেষ হয়েছে। সাততলা ওই ভবনের ছবিও দেখা যাচ্ছে ইন্টারনেটে। তবে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন প্রচারে কোম্পানির যেসব মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, তার সবই বন্ধ। কোম্পানির গুগল পেইজে আসাদ নামের এক গ্রাহক ছয় মাস আগে মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধের কারণ জানতে চাইলেও তার কোনো জবাব দেওয়া হয়নি

কক্সবাজারের কমফোর্ট সি স্টার নামে প্রকল্পটি শুরুর সময় (২০১০) রাজধানীতে কোম্পানিটির কার্যালয় ছিল ধানমন্ডি ১৩ নম্বর রোডের // ভবনের দ্বিতীয় তলায়। ওই ভবনের প্রহরীরা জানিয়েছেন, ঠিকানায় এখনও বিভিন্ন চিঠিপত্র যায়; কিন্তু কোম্পানির খবর নেই। রিহ্যাবের তথ্যমতে, কোম্পানিটির কার্যালয় হচ্ছে পশ্চিম পান্থপথের এসএস স্টিল ভবনের চতুর্থ তলায়। সরেজমিনে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে কোম্পানিটি সেখান থেকে অফিস গুটিয়ে নিয়েছে

প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিহ্যাব) সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ কোম্পানির উদ্যোক্তার সঙ্গে আমার অনেক দিন ধরে দেখাসাক্ষাৎ নেই। তিনি এক সময় রিহ্যাবের সঙ্গে ছিলেন বলে জানতাম। তবে কোম্পানির কোনো প্রকল্পের বিষয়ে আমার জানা নেই

প্রসঙ্গে কোম্পানিটির কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নাম এম এনায়েতুল্লাহ। তিনি এক সময় রিহ্যাবের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। কক্সবাজারের প্রকল্পটির অগ্রগতি দেখিয়ে তিনি আরও বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১০ সালের মার্চে রাজধানীর মিরপুরেও একটি বহুতল ভবনের প্রকল্প নিয়েছিল কমফোর্ট হোমস। বেনারসি পল্লির ডিব্লকের ওই প্রকল্পটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌকে। মিরপুর অঞ্চলের সর্ববৃহৎ শপিংমল কাম অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে বলে ওই সময় প্রচার করা হয়েছিল।কমফোর্ট বেনারসি সেন্টারনামের ওই প্রকল্পটির জন্য রাইজিং সান কটন রিফাইনিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দুই বিঘা জমি নেওয়া হয়

মিরপুরের বেনারসি পল্লিতে গিয়ে দেখা গেছে, ওই জমিতে বাস্তবে কোনো ভবন গড়ে ওঠেনি। সেখানে ঝুট কাপড়ের কিছু দোকান চলছে একতলা টিনশেড ভবনে। প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হয় জমির মালিক রাইজিং সান কটন রিফাইনিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কমফোর্ট পাঁচ বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণের চুক্তি করেছিল আমাদের সঙ্গে। সাড়ে তিন বছর পর দেখা গেল তারা কিছুই করেনি। পরে আমরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছি। আর জমির দখল নিয়েছি। কমফোর্ট হোমস তখন ভবনের নকশা অনুমোদন হয়ে গেছে দাবি করে আদালতের কাছে আমাদের দখলের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিল। কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেন। কোম্পানিটি কক্সবাজারের বিশাল প্রকল্প দেখিয়ে আমাদের বুঝিয়েছিল যে, ভবন নির্মাণ করে দেবে। এর এমডি রিহ্যাবের নেতাও ছিলেন। কিন্তু তিন বছর পর আমরা দেখলাম তারা প্রতারক। এখন তাদের খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।