করপোরেট টক সাক্ষাৎকার

‘গ্রাহক সন্তুষ্টির কারণেই ব্যবসায়িক ভিত তৈরি হয়েছে’

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের সফল পথচলার নেপথ্যের কারিগর রুপালী চৌধুরী। এক দশক ধরে এ প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার নেতৃত্বে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি উত্তরোত্তর সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বার্জারের পথচলার কয়েকটি বিষয়ে কথা বলেন তিনি

বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়াতে আপনার ব্যবসায়িক কৌশল কী?
রুপালী চৌধুরী: একটি প্রতিষ্ঠান যা কিছু করে, শেষ পর্যন্ত তা মুনাফাতেই রূপান্তরিত হয়। বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটিকে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন ঘটাতে হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে বাজারকে ছাড়িয়েও যেতে হয়। সৃষ্টিশীলতার ধারা নিশ্চিত হলেই কেবল সেটি সম্ভব হবে। এজন্য অন্যান্য প্রতিযোগীর তুলনায় ক্রেতাকে সেরা পণ্য ও সেবা দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে অবশ্যই নতুন প্রযুক্তি আনতে হবে। সে সঙ্গে কমাতে হবে উৎপাদন ব্যয়। প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হলে এ ধরনের চেষ্টা সব সময় থাকতে হবে।

বাংলাদেশে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির নেপথ্যের গল্প বলবেন…
রুপালী চৌধুরী: ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে বার্জারের নিজস্ব কারখানা নির্মাণ হয়। আরও আগে ১৯৫৬ সাল থেকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কাঁচামাল বা পেইন্ট এদেশে এনে বিক্রি করা হতো। বার্জার এদেশে অনেক নতুন প্রযুক্তি এনেছে। ‘অটোমেটিং টেনটেইড সিস্টেম’ আমরাই এদেশে প্রথম এনেছি। এর মাধ্যমে ক্রেতা যে কোনো সময় যে কোনো রঙ ও শেড কার্ড থেকে পছন্দ করে বানাতে পারেন। আগে আমাদের ডিলাররা শুধু টেনটেইড বা উৎপাদিত শেড বিক্রি করতেন। এখন তারা মেশিনের সাহায্যে নিজেরাই যে কোনো শেড বানাতে পারেন। অর্থাৎ আমাদের ‘ভ্যালুচেইন’-এর নিয়মিত উন্নয়ন ঘটেছে, ঘটছে। গ্রাহক সন্তুষ্টির কারণেই ব্যবসায়িক ভিত তৈরি হয়েছে।

সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলতে কোন ধরনের পণ্য আনছেন?
রুপালী চৌধুরী: আমরা উচ্চমানের পরিবেশবান্ধব পণ্য ও লাক্সারি সিল্ক টাইপের ইমালশন বাজারে ছেড়েছি। যে কোনো উন্নত দেশে যে পেইন্ট পাওয়া যায়, বর্তমানে ক্রেতারা আমাদের দেশেই তা কিনতে পারছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে শিল্পবিপ্লব হচ্ছে। এসব শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী পাউডার কোটিং, কয়েল কোটিং প্রভৃতি আমদানি করা পণ্যের সমযোগ্য পণ্য আমরা এখানেই তৈরি করছি। এগিয়ে থাকতে আমরা তরুণ মেধাবীদের দক্ষতা উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি। একইভাবে বাজার নিয়ে গবেষণা ও পণ্যের মানোন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

সর্বশেষ..