গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল

 

 জাকারিয়া পলাশ: বিনিয়োগের জন্য সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য সর্বাধুনিক ব্যবস্থাপনায় একশ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অঞ্চলের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিউদ্যোগেও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি

দ্য বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অ্যাক্ট, ২০১০এর অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি চালু হয় ২০১০ সালে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে হলেও সংস্থার নির্বাহী কার্যালয় রয়েছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে। তথ্যমতে, একশ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ৭৭টি অঞ্চলের তালিকা নির্ধারিত হয়েছে। যার মধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে প্রায় ত্রিশটি অঞ্চলের। চারটি ব্যক্তি মালিকানাধীন তিনটি সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত অঞ্চল এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত

প্রাকযোগ্যতার সনদ পেয়েছে ১২টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান বার্ষিক ৪০০০ কোটি ডলারের (৪০ বিলিয়ন) রফতানি সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ছাড়া এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীন, ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি বিনিয়োগের জন্য আহ্বান করছে বেজা

সরকারি উদ্যোগে প্রস্তুত তিনটি অঞ্চল

শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে দেওয়ার জন্য ৪০ হাজার হেক্টর বা এক লাখ একর জমির একটি ল্যান্ডব্যাংক গঠন করার পরিকল্পনা করেছে বেজা। আমদানি, রফতানি, স্থানীয় বাজারে বিক্রি, স্থানীয় ক্রয়াদেশ, স্যাম্পল,

4(1)সাবকন্ট্রাক্ট, ইউটিলিটি কানেকশন,

অফশোর ব্যাংকিং লাইসেন্সের এনওসি, অন্যান্য সেবার লাইসেন্স, এসটিপি, সিইটিপি, জেনারেটর স্থাপন, ভ্যাট টিআইএন নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ভবন কাঠামো অনুমোদন, পরিবেশ সংক্রান্ত অনুমোদন, কাস্টমস অনুমোদনসহ সব ধরনের অনুমোদন একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরবরাহ করা হবে

অঞ্চলের উন্নয়নে সম্পৃক্ত বেসরকারি উদ্যোক্তারা ১২ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি পাবেন। সেখানে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপন করলে তারাও ১০ বছরের আয়কর অব্যাহতিসহ প্রায় ৩০ ধরনের বাড়তি সুবিধা পাবে। এসব সুযোগসুবিধা সমৃদ্ধ তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বেজা। এগুলো হচ্ছেÑবাগেরহাটের মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল মৌলভিবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল। সূত্রমতে, ২০১২ সালে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঁচটি অঞ্চলকে বাছাই করা হয়। পরে এর মধ্যে তিনটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়

1মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৫৫০ একর জমির ওপরে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রথম মাল্টিসেক্টর অর্থনৈতিক অঞ্চল। ঢাকাচট্টগ্রাম হাইওয়ের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটি। এখান থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব ৭৯ কিলোমিটার আর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের দূরত্ব হবে ৬৭ কিলোমিটার। এখানে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এতে ১৩২০ মোগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। ফেনী নদী মহামায়া লেক থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলটিতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাইপলাইন স্থাপনের জন্য গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ কাজ করছে বলে জানা গেছে। ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে বেজা কর্তৃপক্ষ। তৈরি পোশাক সহায়ক শিল্প, টেক্সটাইল, মোটরবাইক অটোমোবাইল, পার্টস জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উদ্যোক্তারা অঞ্চলে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠা হলেও এর পাশাপাশি মিরসরাই ইজেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১৫ হাজার একর জমিতে বিনিয়োগের সবধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করবে

1(1)মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল

বাগেরহাটের মোংলা এলাকার অর্থনৈতিক অঞ্চলটির অবকাঠামো গঠন শেষ করেছে বেজা। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, জমি উন্নয়ন থেকে শুরু করে পয়ঃপ্রণালি স্থাপন পর্যন্ত বেশ কিছু প্রাথমিক কাজ শেষ করা হয়েছে। পরে প্রকল্পটিকে আরও উন্নয়নের জন্য সরকারিবেসরকারি সহযোগিতার (পিপিপি) আওতায় পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টকে যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পিপিপির আওতায় পরিচালিত অঞ্চলটি পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন প্রাইভেট লিমিটেড হিসেবে পরিচিত

পিপিপির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল এটি। ২০৫ একর জমিতে অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে প্রাথমিকভাবে ২০ মোগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা রয়েছে। ছাড়া ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সরবরাহের জন্য পার্শ্ববর্তী রামপাল থেকে পানির লাইন করা হবে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। অঞ্চলে তৈরি পোশাক, পাট শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, এলপিজি শিপইয়ার্ড শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে

শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল

মৌলভীবাজারের ৩৫২ একর এলাকাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হবে সরকারিবেসরকারি উদ্যোগে (পিপিপি) শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল। কুশিয়ারা নদীর পানিতে অঞ্চলটির সব অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। এখানে টেক্সটাইল, সিরামিকস, পেইন্ট অ্যান্ড গ্লাস প্রস্তুত গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনের সুবিধা দেওয়া হবে। সম্প্রতি অঞ্চলটি বিনিয়োগকারীদের জন্য š§ুক্ত করা হয়