ঘাটতি পূরণে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিন

চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেল, ওই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মার্চ নাগাদ আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩১১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। তার মানে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার মতো। এদিকে অর্থবছর শেষ হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। এরই মধ্যে আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে এনবিআরকে। অনেকেই বলছেন, মাত্র তিন মাসে এ পরিমাণ রাজস্ব আহরণ অসম্ভব এবং অর্থবছর শেষে ঘাটতি থেকে যেতে পারে ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। এনবিআর চেয়ারম্যান এ দৈনিকের কাছে অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন, ‘অর্থবছরের শেষদিকে লক্ষ্যমাত্রা একটু বেশি থাকে; তবে আদায়ও হয় বেশি’। তার যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ না করেও বলা যায়, আহরণ বাড়লেও নিঃসন্দেহে আলোচ্য সময়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাটা হবে চ্যালেঞ্জের ব্যাপার।

অনস্বীকার্য যে, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল খানিকটা বেশি। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়াটাও একটা বড় বিষয় ছিল। এতে কাক্সিক্ষত মাত্রায় রাজস্ব আহরণ হবে না, এটাও বুঝতে পেরেছিলেন অনেকে। অবশ্য পরিসংখ্যানগত দিক থেকে রাজস্ব ঘাটতি হ্রাসের উপায় একটা আছে। সেটা হচ্ছে বাজেট সংশোধন। এ কর্মটি প্রায় প্রতি বছরান্তেই করা হয় এবং এটি স্বাভাবিক অনুশীলনে পর্যবসিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান। তবে অনেকে মনে করেন, বাজেট সংশোধনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বিচার করা হলে সেটি হবে রাজস্বের পরিমাণগত মূল্যায়ন। অথচ সবাই সার্বিকভাবে জানতে চান, রাজস্ব আহরণে আমাদের গুণগত উত্তরণ ঘটল কি না। সে ক্ষেত্রে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া কষ্টকর।

খেয়াল করার বিষয়, প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আহরণে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তা গত অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম। এখন অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে এসে আহরণের গতি বাড়ানো গেলেও সেটি যে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছুবে না, তা বলাই বাহুল্য। সহজে অনুমেয়, নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন হলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হতো। সেটি কেন এবারে কার্যকর করা হলো না, তাও সবার জানা। মূলত জনপ্রত্যাশার চাপে জোরেশোরে ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও নতুন ভ্যাট আইনের প্রয়োগ স্থগিত রাখে সরকার। তখন এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সিদ্ধান্তটির পক্ষে যেমন যুক্তি ছিল; এর বিপক্ষে কথা বলা লোকেরও অভাব ছিল না। তবে সরকার বোধহয় একটা প্রচেষ্টা নিতে পারতÑনতুন ভ্যাট আইন পুরোপুরি না হলেও আংশিকভাবে প্রয়োগের। তাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ত; বিভিন্ন খাতও নতুন আইনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পেত বা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠত। পরবর্তী অর্থবছরে গিয়ে এ শিক্ষাটা কাজে লাগানো যেতে পারে বলে অনেকের মত। এরই মধ্যে এনবিআরের জনবল বৃদ্ধি পেয়েছে; শক্তিশালী হয়েছে এর সাংগঠনিক কাঠামো। বলা যায়, অধিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি আগের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম। এ অবস্থায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় এমনি ধারার ঘাটতি দেখা দেওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক বৈকি। সবার প্রত্যাশা, এর প্রতি মনোযোগ সহকারে যত্ন নেবেন সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে অটোমেশনেও জোর বাড়ানো দরকার। তাতেও রাজস্ব আহরণ অনেকটা বাড়বে বলে ধারণা।