দুরে কোথাও

ঘুরে আসুন বার আউলিয়ার মাজার

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের কেওয়ার গ্রামে প্রাচীনকালের আলোচিত সুফি দরবেশ ও ইসলাম ধর্মের সাধকদের সম্পর্কে একটি প্রাচীন শিলালিপি পাওয়া গেছে। শিলালিপি অনুযায়ী, প্রাচীন বিক্রমপুর তথা বর্তমান মুন্সীগঞ্জে ৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে (হিজরি ৪২১ সন) আরব থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর আনসার ও মুজাহিদ হিসেবে আউলিয়ারা কেওয়ার গ্রামে আসেন।
এক সময়ে এখানে কালীদাস সাগর প্রবাহিত হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরবর্তীকালে স্থানটিতে বড় চর পড়ে জঙ্গলে পূর্ণ হয়। পরিণত হয় পতিত ভূমিতে। এরপর থেকে এখানে ধীরে ধীরে জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। আরও পরে ১২ আউলিয়া এখানে আসেন। ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য তারা এখানে অবস্থান করেন।
পরে দ্বীন ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে বিক্রমপুর পরগনার বিভিন্ন স্থানে ইমারত নির্মাণ করা হয়। খাবারের পানির ব্যবস্থা করা হয়। খনন করা হয় দিঘি। প্রতিষ্ঠা করা হয় ইবাদতখানা। পরে এখানেই তারা ওফাত গ্রহণ করেন।
১৯৭৪ সালে কেওয়ার গ্রামের তেঁতুলতলা নামক স্থানে স্থানীয়রা মাজারের সংস্কারকাজ শুরু করেন। এখানে পর্যায়ক্রমে সারি সারি তিনটি মাজার এখনও বিদ্যমান।
সংস্কারের সময় ভগ্ন একটি মাজারের পাশ থেকে একখণ্ড পাথরের আরবি ও ফার্সি ভাষায় লিখিত শিলালিপি পায় এলাকাবাসী। ওই শিলালিপিতে বার সুফি-দরবেশ বা ইসলাম প্রচারকের নাম উল্লেখ রয়েছে। এভাবে বার আউলিয়ার নাম জানা যায়। মূলত তখন থেকেই বার আউলিয়ার নামে এ স্থানের প্রচার ও প্রসার ঘটে।
কালেমা তাইয়েবা খচিত রয়েছে ওই শিলালিপিতে। ৪২১ হিজরি স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১২ অলি বা দরবেশের নাম পাথরটিতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁরা হলেন
# শাহ সুলতান হোসাইনি (রহ.) (মদিনা থেকে আগত)
# সুলতান সাব্বির হোসাইন (রহ.)
# কবীর হাসিমি (রহ.)
# আল হাসান (রহ.)
# শেখ হোসাইন (রহ.)
# আবুল হাসেম হোসাইনি (রহ.)
# হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক (রহ.)
# হজরত ইয়াছিন (রহ.)
# ওবায়েদ ইবনে মুসলিম আসাদি (রহ.)
# আবদুল হালিম (রহ.)
# শাহাদাত হোসাইনি (রহ.)
# আবুল কাহার আল বাগদাদি (রহ.) (ইরাকের বাগদাদ থেকে এসেছেন) তাঁরা বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের সরস্বতী, কেওয়ার, মহাকালী, বজ যোগিনী, চম্পাতলা গ্রামে ইসলামের প্রসার ঘটান। পরে রাজবাড়ী, শ্রীপুর, কার্তিকপুরে পবিত্র ইসলাম প্রচার করেন। কেওয়ার গ্রামে পানির অভাব দূরীকরণে সে সময় আউলিয়ারা একাধিক দিঘি খনন করেন। দিঘিগুলো এখনও সেখানে বিদ্যমান।
১৯৭৪ সাল থেকে কেওয়ারের তেঁতুলতলা মাজার বার আউলিয়ার মাজার হিসেবে পরিচিত।

যেভাবে যেতে পারবেন
রাজধানীর নিকটবর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জ। সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের কেওয়ার গ্রামে বার আউলিয়ার মাজারটি অবস্থিত। সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। তবে মাজারটি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে আরও প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
ঢাকা থেকে সকালে এসে মাজারটি পরিদর্শন করে বিকালেই ফিরে যাওয়া যাবে। রাজধানীর গুলিস্তানের সামনে থেকে দিঘিরপাড় টান্সপোর্ট লি. পরিবহনের বাসে চড়ে ৬০ টাকায় মুন্সীগঞ্জ যেতে পারেন।
নৌপথে গেলে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যানজট এড়িয়ে নদীপথের সৌন্দর্যও উপভোগ করা যাবে। রাজধানীর সদরঘাটের শ্যামবাজারের কাছে নতুন লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতি ঘণ্টায় চাঁদপুরগামী যে লঞ্চগুলো ছাড়ে, তা মুন্সীগঞ্জ হয়েই যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যাবে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে। এখান থেকে রিকশাযোগে মাজারে যেতে পারেন, ভাড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তাছাড়া লঞ্চঘাট থেকে রিকশাযোগে ১০ টাকায় জেলা শিল্পকলার সামনে যেতে পারেন। এখান থেকে ১০ টাকায় ইজিবাইকে লোহারপুল নামতে হবে। তারপর আবার ১০ টাকায় রিকশাযোগে গন্তব্যে।

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ

সর্বশেষ..