ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এশিয়া ও মার্কিন পুঁজিবাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক : শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক ভালো অবস্থানে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার বাড়াতে পারে মন আশঙ্কায় চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বপুঁজিবাজারে অস্থিরতা ছিল। তবে এখই সুদহার বাড়ালে মার্কিন অর্থনীতিতে শ্লথগতি দেখা দেবে ফেডের এক কর্মকর্তার এমন মন্তব্য এবং ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধিতে শুক্রবার এশিয়া ও মার্কিন পুঁজিবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে দেখা গেছে। খবর রয়টার্স, সিএনবিসি।

জাপান বাদে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সার্বিক পুঁজিবাজার সূচক এমএসসিআই আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের সপ্তাহে এ সূচক বেড়েছিল তিন দশমিক ৯ শতাংশ। তবে মাসের শুরুতে বাজার ধসের আগের সূচকের তুলনায় এটি এখনও চার শতাংশ কম।

এদিন মার্কিন পুঁজিবাজারের সূচকও সপ্তাহের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ করেছে। ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৩৪৭ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৩০৯ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৪৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৬০ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ১২৭ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে ইউরোপের বাজারে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এশিয়ার বাজারের মধ্যে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১৫৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ৪৮ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বা দশমিক ৮২ পয়েন্ট, চীনের সাংহাই সূচক ২০ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাংসেংয়ের সূচক বেড়েছে ৩০১ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারের সূচক। দেশটির কেওএসপিআই সূচক এদিন বেড়েছে এক দশমিক ৫৪ শতাংশ। এছাড়া ভারতের পুঁজিবাজার সূচক সেনসেক্স ৩২৩ পয়েন্ট উঠে ৩৮ হাজারের ঘরে ফিরেছে। দিন শেষে পয়েন্ট বেড়ে পৌঁছায় ৩৮ হাজার ১৪২-এ। ভারতের অন্যতম সূচক নিফটিও এদিন ১০৮ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৮৯১ পয়েন্টে পৌঁছায়।

তবে এখনও একে পুরোদস্তুর ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞই। ভারতের জেরোধা স্টক ব্রোকিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্তিক রঙ্গাপ্পা বলেন, ‘এ দিন সূচক উঠেছে মূলত পড়তি বাজারে তুলনায় কম দরে শেয়ার কিনতে আগ্রহের কারণে। তবে এখনই একে ঘুরে দাঁড়ানোর তকমা দেওয়া ঠিক নয়’ আগামী দিনে তাই বাজারের আরও কিছুটা পতনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

তবে বাজারের এ উত্থানের দিনেও নীরব মোদি কেলেঙ্কারির প্রভাব সেখানে স্পষ্ট। এ কেলেঙ্কারিতে নাম উঠে আসা গীতাঞ্জলি জেমসের শেয়ারদর আট দিনে পড়েছে ৬০ দশমিক পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ ওই কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর বাজার থেকে মুছে  গেছে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ৪৫০ কোটি রুপির সম্পদ। পতন অব্যাহত পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারদরেও। এ দিন তা ফের পড়েছে এক শতাংশের মতো।

উল্লেখ্য, সুদহারের উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দরপতনের মুখে পড়েছে মার্কিন পুঁজিবাজার। এর জেরে বিশ্বপুঁজিবাজারে ধস নামে।

প্রত্যাশার চেয়ে মার্কিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভালো হওয়ার কারণেই সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাতেই হঠাৎ করে দরপতন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তবে ফেডের সেন্ট লুইসের প্রেসিডেন্ট জেমস বুলার্ড বৃহস্পতিবার বলেছেন, সুদহার এখনই বৃদ্ধি পেলে মার্কিন অর্থনীতিতে শ্লথগতি চলে আসবে। তার এ বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আসে। এ কারণেই শুক্রবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। অবশ্য ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধিও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।