ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যাচ্ছেতাইভাবে হারা। ঢাকা টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় একই পরিণতি। সব মিলিয়ে সব জায়গা থেকে সমালোচনা কুড়াতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে সেসব আর মনে করতে চায় না টাইগাররা। বরং আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে চোখ স্বাগতিকদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ফুটে উঠলো গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কণ্ঠে।

টি-টোয়েন্টিতে বরাবরই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নি¤œমুখী। কিন্তু সেখান থেকে আজ বের হতে চাইছে টাইগাররা। অতীত ভুলে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নিজেদের মেলে ধরার লক্ষ্য স্বাগতিকদের। একই সঙ্গে বিশ্বকে নতুন পরিচয়টা জানিয়েও দিতে চান মাহমুদউল্লাহর দল। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের খেলা। এই খেলার গতিটাও ভিন্ন। আমাদের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্যরে ওপর যে প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আছে, আমরা সেটা সরাতে চাই। আমরা পৃথিবীর প্রতিটি দলকে একটা বার্তা দিয়ে রাখতে চাই যে টেস্ট ও ওয়ানডেতে আমরা যেভাবে এগোচ্ছিলাম. টি-টোয়েন্টিতেও আমরা সেভাবেই এগিয়েছি।’

ঘরের মাঠে বরাবরই দারুণ দল বাংলাদেশ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি এলেই যেন অন্যরকম কিছু ভর করে টাইগার শিবিরে। এটা কি প্রত্যাশার চাপ থেকে হয়। গতকাল এ প্রশ্নটি যেন মাহমুদউল্লাহর কাছে গেল তীর হয়ে। ‘আসলে এসব বলে লাভ নেই। তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ঘরের মাঠে ভালো খেলে, জিতে এই প্রত্যাশাটা আমরাই বাড়িয়েছি। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা এই সিরিজটা খেলতে পারিনি।’

বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের টি-টোয়েন্টি দলে একদমই নতুন মুখ ৬টি। এই নবীনদের নির্ভার ক্রিকেট খেলতে দিতে চান মাহমুদউল্লাহ, ‘আমাদের দলে নতুন মুখ আছে বেশ কজন। চাওয়া থাকবে ওদের ওপর যত কম চাপ দেয়া যায়। ওদের নিজেদের মেলে ধরার সুযোগটা দেব। সেটা ছোট্ট কোনো তথ্য ভাগাভাগির মাধ্যমে হোক, উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে হোক বা যে কোনোভাবে। দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও বেশ কজন আছেন। সবাই মিলে চেষ্টা করব যেন আমরা সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৭টি টি-টোয়েন্টি খেলছে বাংলাদেশ। যেখানে ৫ হারের বিপরীতে টাইগাররা জিতেছে ২টিতে। এ দিক দিয়ে বিবেচনা করলে স্বাগতিকদের চেয়ে আজ বেশ এগিয়ে সফরকারীরা। কিন্তু এমনটা মোটেও ভাবছেন না লঙ্কান ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা। ‘একটি দল হিসেবে এই সিরিজটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ এক থেকে দেড় বছরে আমাদের ধারবাহিকতা ছিল না। আমরা আশা করছি খুব ভালোভাবেই এই সিরিজ শেষ করতে পারব। আমরা বিপিএলে কিছু বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলেছি। তাই আমরা তাদের সামর্থ্যরে জায়গাটা জানি। এটা দুই দলকেই সহায়তা করছে। তারাও জানে আমরা কি করতে পারি। আমরা মনে করছি আমরা একটা মোমেন্টামে আছি। বিশেষ করে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ জয়ের পর। আমাদের প্রত্যাশা সত্যিই অনেক উঁচুতে।’

টি-টোয়েন্টির খেলা ১২০ বলের। প্রতিটি বলই যেখানে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ বারবারই উল্টো চাপে ফেলে নিজেদের। পারে না বেশি ডট বলতে করতে। আজ সেদিকেই বেশি নজর থাকছে টাইগারদের। এ ব্যাপারে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। টি-টোয়েন্টিতে ডট বলের পারসেন্টেজ অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। যত কম হয়, তত ভালো। ডট বল না খেলে যদি সিঙ্গেল নেয়া যায় বা প্রান্ত বদলানোয় মনোযোগ দিতে পারি, তাহলে খুব ভালো হয়। এ ফরম্যাটে সফল সব দলের মাঝেই ব্যাপারটা থাকে। যাদের ডট বলের হার কম থাকে, তাদের সফলতার হার বেশি থাকে। আমাদেরও সেই চেষ্টা থাকবে। কারণ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

আজ বিকেল ৫টায় শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি জিততে নানারকম ছক কষছে বাংলাদেশ। কিন্তু অতীত ঘাটলে দেখা যায়, নিজেদের ফাঁদেই বেশিবার পড়েছে টাইগাররা। তবে এবার এ ব্যাপারে বেশ সতর্ক স্বাগতিকরা।