শেষ পাতা

ঘুষের টাকাসহ চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে সমুদ্রগামী জাহাজকে ছাড়পত্র প্রদানে ঘুষবাণিজ্যসহ বিভিন্ন হয়রানি হরহামেশা চলছে। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন নাম্বারে (১০৬) অভিযোগ করার পর নাজিম উদ্দিন আহমদ নামের চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের এক রাজস্ব কর্মকর্তাকে (প্রশাসন) আটক করেছে দুদক।
গতকাল কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর কাস্টম হাউজের নিচতলায় নিজ কক্ষের স্টিল আলমিরা থেকে ঘুষের প্রায় ছয় লাখ টাকাসহ আটক করা হয়। এ সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নাজিম উদ্দিন আহমদ ১৯৯১ সালে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
দুদক জানায়, সমুদ্রগামী জাহাজের ছাড়পত্র প্রদানে ঘুষবাণিজ্যের বিষয়ে দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন ১০৬ নম্বরে) অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী জাহাজ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এরপরই দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ও মো. হুমায়ুন কবীর।
সূত্র আরও জানায়, দুদক কর্মকর্তারা সকালে রাজস্ব কর্মকর্তার কক্ষে যায়। পরে নাজিম উদ্দিনের কাছে স্টিল আলমারির চাবি চায়। কিন্তু নাজিম উদ্দিন চাবি হারিয়ে গেছে বলে গড়িমসি করে এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে না বলে জানায়। পরে বিকালে আলমারির তালা খুলে প্রায় ছয় লাখ টাকার বেশি ঘুষের টাকা ও ৯টি নথি জব্দ করা হয়।
দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, রাজস্ব আদায়ের প্রবেশদ্বার দুর্নীতিমুক্ত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঘুষের টাকাসহ আটক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করবে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য গতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও চালানো হবে।
জাহাজ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, বন্দরে আসা সমুদ্রগামী জাহাজ বন্দর ত্যাগের আগে তিন সংস্থা থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এ তিনটি সংস্থা হলো নৌ-বাণিজ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস। সমুদ্রগামী জাহাজের সব মাশুল পরিশোধ করা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পর এ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র পেতে দেরি হলে জাহাজগুলো বন্দর ত্যাগ করতে পারে না। এতে বাড়তি খরচ হয় জাহাজ মালিকদের।
জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, সমিতির কার্যালয়ে শিপিং এজেন্টরা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল। বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করা হয়েছিল। কারণ পোর্ট ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র পেতে দেরি হলে জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারে না।

সর্বশেষ..