ঘোষণার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দেখতে চাইব

সদ্য শপথ নেওয়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার যে দায়িত্ব নেওয়ার আগে হোমওয়ার্ক ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছেন, সেটা তার বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে। উদাহরণ হিসেবে শুক্রবার রাজধানীর বিসিসি অডিটরিয়ামে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এগিয়ে যাওয়ার আরও চার বছর’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রাখা তার বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। সেখানে সার্বিকভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত নিয়েই আলোচনা করেছেন তিনি, এমনকি ডাক বিভাগ ঘিরেও তার ভিশন সর্বসমক্ষে তুলেছেন এভাবেÑ‘ডাক বিভাগের পোস্ট অফিসগুলোকে ডিজিটাল হাবে পরিণত করা হবে’। টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ও বিটিসিএলকে লাভজনক করে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ডটবাংলা ও ডটবিডি ডোমেইনের নিবন্ধন ও পেটেন্ট সুবিধা বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যেন নেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন; বলেছেন প্রযুক্তি খাতের রফতানিতে নগদ প্রণোদনা ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগে কর অবকাশ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে। আমরা মনে করি, এ প্রতিটি ইস্যুই নিবন্ধ লেখার মতো বিষয়বস্তু। এগুলোকে আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগ্রহী লেখকদের হাতেই ছেড়ে দিতে চাই। এ সম্পাদকীয়তে বরং ফোকাস করতে চাই বিশেষ একটি ইস্যুতে। গতকালের শেয়ার বিজে যে খবর ছাপা হয়েছে ‘ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের একক দাম নির্ধারণ করা হবে’ শিরোনামে, সেটিতে। প্রতিবেদনটি সচেতন পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে বলেই আমাদের ধারণা। তবে বিষয়টি ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই এজন্য যে, বাক্যটি দেখলেই সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারবেন এটি কী সংক্রান্ত। এক্ষেত্রে আমাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হলো, উদ্যোগটি স্বাগত জানানোর মতো। ব্রডব্যান্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণের সুযোগ কম। তার মতো আমাদেরও প্রশ্ন সারা দেশে সরবরাহকৃত ইন্টারনেটের গতি ও দামে সমন্বয়হীনতা কেন? বিশ্ব যেখানে জিবিপিএস ইন্টারনেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে, সেখানে আমরা কেন এক এমবিপিএস ইন্টারনেট দিতে পারব না ঘরে ঘরে?

দেশে প্রচলিত ইন্টারনেটের গতি ও দাম নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নতুন নয়। অনেক দিন ধরেই তা চলে আসছে। একটা সময় ছিল, যখন খোদ সরকারের ব্যান্ডউইডথই ছিল কম। সেটা কম হওয়ার পেছনে আবার তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের কিছু বোকামি ছিল বলে অভিযোগ অনেকের। পরে যখন অধিক ব্যান্ডউইডথ কেনা হলো, সেটি ছিল চড়া দামে। ফলে তা বিক্রিও হয়েছে অধিক দামে। তবে লক্ষণীয়, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’র ইশতেহার নিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আসা আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে এসেছে ব্রডব্যান্ডের গতি ও দামে; পাশাপাশি বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামোয়। সেজন্য দেখা যাবে, ২০০৮ সালের পর থেকে দেশে মোটামুটি অব্যাহতভাবে বেড়েছে ইন্টারনেটের গতি। তবে দুঃখজনক হলো, একই সময়ে সরকারিভাবে ব্রডব্যান্ডের দাম কমে গতি বাড়লেও তার প্রভাব সেভাবে পড়ছিল না খুচরা বাজারে। পরবর্তীকালে তদারকি বাড়ায় বিশেষত রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে সাধারণ ব্রডব্যান্ডের দাম কমে গতি খানিকটা বৃদ্ধি পায়। আবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উদ্যোগের ফলে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয় মোবাইল ব্রডব্যান্ড। তবু এখনও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে, এমনকি জেলা শহরগুলোয় ঠিকমতো ব্রডব্যান্ড সেবা পাওয়া যায় না বলে। তার সঙ্গে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের চার্জ নিয়েও অসন্তোষ কম নেই গ্রাহকের মনে। এমতাবস্থায় এক রেটে সারা দেশে এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড সরবরাহের যে ঘোষণা দিলেন মন্ত্রী, সেটি ব্যবহারকারীদের মনে স্বস্তির পরশ না বুলিয়ে পারে না। আমরা চাইব, তার প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন হোক এবং একই সঙ্গে ব্রডব্যান্ড বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ বিরাজ করুক।