চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে জাহাজের সংঘর্ষে নষ্ট হলো টিএসপি সার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সারবোঝাই একটি জাহাজের ধাক্কায় অন্য আরেকটি জাহাজে থাকা ৩৭ হাজার টনেরও বেশি টিএসপি সার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। গতকাল পতেঙ্গা এলাকায় মাল্টার পতাকাবাহী ‘এমভি ওরহান’ নামে একটি জাহাজ ভেলিজের পতাকাবাহী ‘এমভি মাইমেরি’ নামে জাহাজটিতে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, আগে থেকে এমভি মাইমেরি নোঙর করে সাগরে দাঁড়িয়ে ছিল। আর গতকাল সকালে এমভি ওরহান নামে জাহাজটিও নোঙর করতে সেখানে আসে। ওরহান পেছন থেকে ঘুরে এসে মাইমেরিকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইমেরির একটি হ্যাজ ফুটো হয়ে পানি ঢুকে যায়। ফলে জাহাজে থাকা সারগুলো ভিজে যায়। নোঙর করার সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নোয়াপাড়া ট্রেডার্স নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য মাইমেরি জাহাজটি লেবানন থেকে ৩৭ হাজার ৬৬১ টন টিএসপি সার নিয়ে চট্টগ্রাম আসে। এমভি মাইমেরির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এইচসি মেরিনের পরিচালক নুরুন্নবী ইমরান জানান, মাইমেরি নোঙর করে সাগরে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় এমভি ওরহান নামে জাহাজটিও নোঙর করতে সেখানে আসে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, পতেঙ্গার অদূরে দুটি জাহাজের সংঘর্ষে একটির হ্যাজ ফুটো হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট এগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে এতে জাহাজ চলাচলের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

উল্লেখ, সম্প্রতি বছরগুলো চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে জাহাজে জাহাজে সংঘর্ষে আরও বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটে। গত বছর বন্দর চ্যানেলের আশপাশে ১২টি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে চারটি দুর্ঘটনায় ডুবেছে বেশ কয়েকটি ছোট জাহাজ। বাকি আটটি সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৬টি জাহাজ। এছাড়া বন্দর চ্যানেলের আশপাশে ও বহির্নোঙরে গত আট বছরে ডুবেছে লাইটারেজ, ট্যাঙ্কারসহ ছোট-বড় ২০টি জাহাজ যার বেশিরভাগ এখনও উদ্ধার হয়নি।