চট্টগ্রামে মনোনয়নপ্রত্যাশী এক ডজন ব্যবসায়ী

সংসদ নির্বাচন

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় আছেন ডজনখানেক ব্যবসায়ী। আর এ লক্ষ্যে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচারের অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেছেন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত না হলেও এলাকায় কিছু মানুষকে দান-অনুদানের মাধ্যমে মনোনয়ন নিতে চাওয়া এমন ব্যক্তিদের প্রতি ভোটারের তেমন আগ্রহ নেই।
মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মতে, দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রাম। এ অঞ্চলের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব অপরিসীম। আর নিজেদের গুরুত্ব আরও বাড়াতে এবারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন-প্রত্যাশায় অবিরত জনসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। আর এ তালিকায় প্রথমবারের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে রয়েছেন মোস্তফা-হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, বিশিষ্ট শিল্পপতি এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম লাবু, পোশাক খাতের উদ্যোক্তা স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান, বিজিএমইএ’র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির, বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অঞ্চলে সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, সহসভাপতি প্যাসিফিক জিন্সের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মাদ তানভীর, সানোয়ারা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান, রিহ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও দ্য কক্স টু ডে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী, বনফুল গ্রুপের এমডি আবদুল মোতালেব এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চুসহ আরও বেশকিছু তরুণ ব্যবসায়ী। আর এসব ব্যক্তিরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়ন চান।
এসব মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার কিছু অংশ) আসনে বিশিষ্ট শিল্পপতি এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম লাবু, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার কিছু অংশ) আসনে বনফুল গ্রুপের এমডি আবদুল মোতালেব, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও সিটির ৯ ও ১০ ওয়ার্ড) আসনে কাশেম মাস্টারের ভাই শিল্পপতি নাছির উদ্দিনের ছেলে সৈয়দ মোহাম্মাদ তানভীর, চট্টগ্রাম-৯ (সিটির ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নং ওয়ার্ড) আসনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি’র ছেলে সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমান।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে লড়তে চান বিজিএমইএ’র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নেত্রী মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করলে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।’ প্রায় একই ধরনের কথা বলেন রিহ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও দ্য কক্স টু ডে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিপরীত দলে যদি শক্তিশীল প্রার্থী থাকে, তবে আমার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ জন্য আমি প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা এ বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিবেন।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে খুব গভীর সম্পর্ক নেই। যদি বর্তমানে কিছুটা সম্পৃক্ততা বাড়লেও তা স্বার্থকেন্দ্রিক। সুতরাং দলের স্বার্থে তৃণমূলের রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন করা উচিত। তা না হলে দলের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনতে হবে। আর এ কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হবে শেখ হাসিনার কর্মীদের। সুযোগসন্ধানী নেতাদের দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জেতা যাবে না। তাই দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে নির্বাচনি তরী পার হতে হবে। তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন সবাই চাইতে পারেন, কিন্তু দল যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচনের সুযোগ দেবে।