চট্টগ্রাম কাস্টমসের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং শাখা গঠন

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: এলসিকৃত পণ্যের বদলের দেশে আসছে মূল্যহীন ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিংবা পণ্য না আসা, যা পুরোপুরি অর্থ পাচার। অনেকটা অবিশ্বাস্য হলেও প্রভাবশালী মহল এলসিকৃত পণ্যের পুরো টাকাই তুলে নিয়ে বিদেশে রেখে দিচ্ছেন। আর এটি সম্ভব হচ্ছে দেশের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নীরব থাকায়। তাই এসব অর্থ পাচার রোধে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ একটি অ্যান্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) শাখা গঠন করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মূল্যবান পণ্য ঘোষণা দিয়ে মূল্যহীন পণ্যের বেশকিছু চালান আসায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেছে। আর এসব আমদানির পুরো প্রক্রিয়াকেই অর্থ পাচার হিসেবে দেখছেন তারা। এরই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের পদস্থ কর্মকর্তারা একটি এন্টি মানি লন্ডারিং টিম গঠন কারার প্রস্তাব করে কমিশনার বরাবর। এরপর কাস্টমস কমিশনারও তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১০ সদস্যের একটি টিম গঠন করার নির্দেশ প্রদান করে সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সূত্রে জানা যায়, মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধ, অপরাধে কেন্দ্র, গতি-প্রকৃতি, কৌশল, রহস্য ও তথ্য উদ্ঘাটন, অপরাধ দমন ও এর মূলোৎপাটন করতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে একটি এন্টি মানি লন্ডারিং শাখা গঠন করা হয়েছে। এতে ১০ জন সদস্যের একটি টিম কাজ করবে। তাতে রাখা হয়েছে দুজন ডেপুটি কমিশনার (এআইআর শাখা ও প্রিভেন্টিভ)। দুজন রাজস্ব কর্মকর্তা, একজন এআইআর শাখা থেকে অন্যজন সংশ্লিষ্ট শুল্কায়ন সেকশন থেকে। দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, একজন এআইআর শাখা থেকে অন্যজন সংশ্লিষ্ট শুল্কায়ন সেকশন থেকে, একজন অফিস সুপার (এআইআর), একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (এআইআর) ও একজন অফিস সহায়ক (এআইআর)। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ড. একেএম নুরুজ্জমান শেয়ার বিজকে বলেন, সম্প্রতি সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা মূল্যহীন, আমদানি নিষিদ্ধ, খালি কন্টেইনার ও মাটি-বালিসহ বেশ কয়েকটি চালান আটক করেছে কাস্টম হাউজ, যা আমরা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ধারণা করছি। এছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে কোনো এন্টি মানি লন্ডারিং শাখা ছিল না। ফলে মানি লন্ডারিং হলেও অনেক সময় জানত না। তাই আমরা একটি এন্টি মানি লন্ডারিং টিম গঠন করেছি। এ শাখা বর্তমান বলবৎ আইন ও আদেশ-নির্দেশ অনুযায়ী মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগসমূহ গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পাদন করবে। আশাকরি এ টিম বিদেশে অর্থ পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ মে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) অর্থ পাচারের যে তথ্য প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৯১১ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। বলা হয়েছে, আমদানি-রফতানিতে আন্ডার ভয়েস এবং ওভার ভয়েসের মাধ্যমেই প্রধানত এ অর্থ পাচার করা হয়।
এ প্রতিবেদনে ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে সাত হাজার ৫৮৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় লাখ ছয় হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছরে দেশের বাইরে পাচার হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। এ অর্থ বাংলাদেশের দুটি বাজেটের সমান। স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশগুলোর মধ্যে অর্থ পাচার সবচেয়ে বেশি হয়েছে বাংলাদেশ থেকেই।