বিশ্ব পণ্যবাজার

চতুর্থ প্রান্তিকে ভারতে স্বর্ণ আমদানি কমবে ২৫ শতাংশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : লতি বচরের শেষ তিন মাসে ভারতে স্বর্ণের আমদানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক চতুথাংশ কমতে পারে। দেশটির অন্যতম প্রধান উৎসব দেওয়ালিতে চাহিদা আগের মতো অলঙ্কারের চাহিদা না থাকায় এবং ভালো মুনাফার আশায় ইকুয়িটির মতো ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁকের কারণেই আমদানি কমার এ ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সুদেশ নামবিয়াত মনে বলছে, ভারতে গত মাসে স্বর্ণ আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম ছিল। চলতি নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও আমদানি কম থাকবে। সব মিলিয়ে অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশটিতে ১৭৫ টন স্বর্ণ আমদানি হতে পারে। গত বছর এই প্রান্তিকে আমদানি হয়েছিল ২৩৪ টন।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাস স্বর্ণ আমদানি হয়েছিল ৬৩৮ দশমিক চার টন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৩১ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ে নতুন কর আইন কার্যকর হয়েছে। এতে স্বর্ণে কর বাড়াতে পারে এ আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা বেশি করে আমদানি করে রেখেছিল। মূলত এ জন্যই আমদানি বেড়েছিল।

চেন্নাইয়ের এমএনসি বুলিয়ানের পরিচালক দামান প্রকাম বলেন,  সাধারণত বছরের শেষ প্রান্তিকে স্বর্ণের চাহিদা বেশি থাকার কথা। কারণ এ সময়ে দীপাবলি ও অন্য উৎসবকে ঘিরে বিবাহ বেশি হয়। তবে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে মূল্যবান এ ধাতুটির চাহিদা অনেকটাই কম।

তথ্যমতে, গত মাসে ভারতে স্বর্ণ আমাদনি হয়েছিল ৭৫ টন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ কম। অন্যতম প্রধান বুলিয়ান আমদানিকারক ইয়েজ ব্যাংকের ভাইস প্রেডিডেন্ট জয়ন্ত পাওয়ানিয়া বলেন, সব মিলিয়ে চাহিদা অনেক দুর্বল। আগামী দুই মাসে চাহিদা বাড়বে বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, মানুষ আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ করে বেশি লাভ পাচ্ছে, বিনিয়োগের চাহিদা খুবই দুর্বর।

আগে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। গত ১ জুলাই থেকে ভারতজুড়ে বাস্তবায়ন হয়েছে নতুন করনীতি জিএসটি। জিএসটির আওতায় স্বর্ণ শিল্পের ওপর ৩ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে।

ভারতে মূলত বিয়ের উপহার, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগসহ নানা কাজে স্বর্ণ কিনে থাকেন ব্যবহারকারীরা। দেশটির স্বর্ণের চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশই গ্রামীণ এলাকা থেকে আসে। জিএসটি বাস্তবায়নে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণ ক্রয়ে উত্সাহ হারাচ্ছেন দেশটির নাগরিকরা। এমনকি খুচরা ব্যবসায়ীরাও একবারে বেশি পরিমাণে স্বর্ণ কিনতে পারছেন না।

প্রতিবেদন মতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের ভোক্তা দেশ ভারত। বর্তমানে দেশটির স্বল্পমেয়াদে পণ্যটির চাহিদা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জিএসটির আওতায় বাড়তি করের বোঝা স্বল্পমেয়াদে পণ্যটির চাহিদা কমাবে।

সর্বশেষ..