চলতি বছর জি-২০ দেশের মধ্যে ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধি হবে সবচেয়ে কম

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে কর সংস্কার ও জার্মানিতে খরচ বাড়ায় চলতি বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্ত অবস্থানে থাকবে। জি-২০ দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি হবে ব্রিটেনের। ফ্রান্সভিত্তিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ওইসিডি এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। খবর বিবিসি।

ওইসিডি বলছে, ২০১৮ সালে ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক তিন শতাংশ। যদিও আগের এক দশমিক দুই শতাংশ পূর্বাভাসের তুলনায় এটি বেশি, তবে জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির এ হার সবচেয়ে কম।

সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করের হার কমিয়েছেন। অন্যদিকে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতে খরচ বেড়েছে, যা এবার বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। চলতি ও আগামী বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধি তিন দশমিক ৯ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। এর আগের পূর্বাভাসে সংস্থাটি বলেছিল, চলতি ২০১৮ সালে প্রবৃদ্ধি হবে তিন দশমিক সাত শতাংশ ও আগামী বছর হবে তিন দশমিক ছয় শতাংশ। যদিও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা বা বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হলে এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মসংস্থান কমবে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে ওলিভার উইমেন ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস এবং আইন প্রতিষ্ঠান ক্লিফর্ড চান্স বলছে, যদি কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট আলোচনা শেষ হয়, তাহলে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত ৫৮ বিলিয়ন পাউন্ড বার্ষিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্রিটেনের বৃহৎ আর্থিক খাত।

গত সোমবার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করে, তবে ইইউর ২৭ দেশের ব্যবসায়ীদের ব্রিটেনে পণ্য প্রবেশে শুল্ক ও অশুল্ক বাবাদ ৩১ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হবে। এর বিপরীতে ব্রিটেনের রফতানিকারকদেরও পণ্য প্রবেশে বছরে অতিরিক্ত ২৭ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হবে।

এসব কারণে কোম্পানিগুলোর ব্যয় বাড়বে, মুনাফা কমবে এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের টিকে থাকাই হুমকির মুখে পড়বে। ব্রিটেনের গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে জনগণ ভোট দেওয়ায় দেশটি ইইউ ত্যাগের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরই এ আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং ব্রিটেন সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্লক ইইউ ত্যাগ করবে। এত দিন ব্রিটেনের সঙ্গে বাকি ২৭ দেশের বাণিজ্য শুল্ক মুক্ত হলেও নতুন কোনো চুক্তি না হলে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম মেনে ও শুল্ক দিয়েই উভয়কে অন্যের বাজারে পণ্য প্রবেশ করাতে হবে। তবে ব্রিটেনের তরফ থেকে জানা যায়, দেশটি একটি চুক্তি করার ব্যাপারে আগ্রহী হলেও চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের পাঁচটি খাতকে ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে। এগুলো হচ্ছে আর্থিক সেবা, গাড়ি, কৃষি, খাদ্য ও পানীয়, ভোক্তা পণ্য এবং কেমিক্যাল ও প্লাস্টিক খাত।