হোম দুরে কোথাও চলুন যাই চলনবিল

চলুন যাই চলনবিল


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

তাপস কুমার: চলনবিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল। তিনটি জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই বিল। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার অনেক এলাকাজুড়ে যে জলাভূমি, বর্ষাকালে সেটাই বিখ্যাত চলনবিল।

শুষ্ক মৌসুমে চলনবিলে পানি থাকে না। তখন চাষাবাদ চলে বিলের জমিতে। বর্ষাকালে পানিতে টইটম্বুর থাকে। জুলাই থেকে অক্টোবর চলনবিল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

চলনবিল অনেক ছোট বিলের সমষ্টি। বর্ষায় এগুলোয় পানিপ্রবাহ বেড়ে একসঙ্গে বিশাল এক জলরাশির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপড়া, শাহাজাদপুরসহ পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, নলডাঙ্গা ও সিংড়া উপজেলাজুড়ে এর বিস্তৃতি। এর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত পাবনার নুন নগরের কাছে অষ্টমনীষা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রশস্ততম দিকটি উত্তর-পূর্ব কোনাকুনি। নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে গুমনী পাড়ের কচিকাটা পর্যন্ত এর সবচেয়ে বড় অংশ, যা প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়ার পূর্বপ্রান্ত থেকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের ভদাই নদীর পূর্ব পাড় পর্যন্ত বিলের পূর্ব সীমানা। চলনবিলের সবচেয়ে বড় অংশ পড়েছে নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নলডাঙ্গায়।

চলনবিলের বুকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে বনপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক তৈরি করা হয়েছে। সড়কের দুপাশে বর্ষাকালে যেদিকে চোখ যায় অথৈ জলরাশি দেখা যায়। সড়কপথে ঘুরে বেড়ানোর সময় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, পালতোলা নৌকা, নৌকায় মানুষ ও মালামাল পরিবহন, নানা প্রজাতির পাখি চোখে পড়ে।

চলনবিলের আকর্ষণীয় একটি স্থান ‘হাইতি বিল’। এর অবস্থান নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়। জেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে। হাইতি বিলকে দেশের সবচেয়ে গভীর বিল বলা হয়। প্রায় ১২ মিটার গভীর এই বিলে সারা বছরই পানি থাকে। বর্ষা মৌসুমে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়।

গাজনা, বড়, সোনাপাতিলা, ঘুঘুদহ, চিরল, গুরকা প্রভৃতি বৃহৎ বিলের বেশিরভাগই

পাবনায়। বড়বিলের আয়তন প্রায় ৩১ বর্গকিলোমিটার। সোনাপাতিলা বিলের আয়তন প্রায় ৩৫ বর্গকিলোমিটার।

 

রাজধানী থেকে নাটোর

রাজধানীর গাবতলি থেকে হানিফ, শ্যামলী, দেশ, ন্যাশনাল প্রভৃতি পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় নাটোরের উদ্দেশে। এছাড়া রাজশাহীগামী যে কোনো বাসেই নাটোর যাওয়া যায়। ভাড়া ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা।

থাকার জন্য

নাটোরের চকরামপুরে কয়েকটি হোটেল রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা রোডের হোটেল উত্তরা, হোটেল মিলাত ও নাটোর বোর্ডিংও উন্নতমানের। ভাড়া ২০০ থেকে ৬০০ টাকা।

 

প্রয়োজনীয় তথ্য

চলনবিলে বেড়ানোর জন্য ভাড়ায় নৌকা পাওয়া যায়। সারাদিনের জন্য ভালো মানের একটি নৌকার ভাড়া পড়বে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকা মিলবে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়। সাঁতার না জানলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নেবেন।

 

চলনবিল জাদুঘর

চলনবিল জাদুঘরটিও দেখে আসতে পারেন। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে এ জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আবদুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এ সংগ্রহশালা। চলনবিলে প্রাপ্ত নানা নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। নাটোর থেকে বাসে চড়ে গুরুদাসপুরে আসতে পারেন। শনিবার বন্ধ থাকে জাদুঘরটি।

 

নাটোর