চলে গেলেন শশী

শেয়ার বিজ : বর্ষীয়ান অভিনেতা শশী কাপুর আর নেই। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে দ্য গার্ডিয়ানসহ ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগতে থাকা শশী মারা যান গতকাল সোমবার (৪ ডিসেম্বর) মুম্বাইয়ে।

শশী কাপুর ‘মুঘল-এ-আজম’খ্যাত পৃথ্বীরাজ কাপুরের ছেলে। জনপ্রিয় অভিনেতা রাজ কাপুর ও শাম্মী কাপুর শশীর বড় দুই ভাই। চল্লিশের দশকে শিশু শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন শশী। ১৯৬১ সালে ‘ধর্মপুত্র’ চলচ্চিত্রে প্রথম মূল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন যশ চোপড়া। দেশভাগের কাহিনী নিয়ে নির্মিত ছবিটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল।

সত্তরের দশক থেকে শশী কাপুরের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। এই দশকে তার অভিনীত ‘জানোয়ার অউর ইনসান’ (১৯৭২), ‘কাভি কাভি’ (১৯৭৬) ও ‘তৃষ্ণা’ (১৯৭৯) চলচ্চিত্রগুলো বক্স-অফিস কাঁপায়। এ সময় তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তুলনা করা হতো। অমিতাভের সঙ্গে শশী ‘দিওয়ার’ ‘কাভি কাভি’, ‘ত্রিশূল’ ও ‘কালা পাথর’ ছবিতে অভিনয় করেছেন।

শশী বিয়ে করেন ১৯৫৮ সালে অভিনেত্রী জেনিফার কেনডালকে। স্ত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে শশী ‘বোম্বে টকিজ’ (১৯৭০) ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৮৪ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী জেনিফার মারা গেলে ধীরে ধীরে ছবিতে কাজ করা কমিয়ে দেন শশী। এরপর অবশ্য ইসমাইল মার্চেন্টের প্রথম কাজ ‘কাস্টড়ি’ (১৯৯৩) ছবিতে শশীকে দেখা যায়। শশীর দুই ছেলে কুনাল ও করণ, আর এক মেয়ে সুজানা।

শশী অন্তত ১৭৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। অনেক জনপ্রিয় ছবির প্রযোজনাও করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে ‘সিলসিলা’, ‘জুনুন’, ‘কালযুগ’, ‘বিজেতা’, ‘উৎসব’। ১৯৯১ সালে ‘আজুবা’ নামে একটি হিন্দি ছবি পরিচালনা করেন শশী কাপুর। এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। তা ছাড়া এই তারকা ১৯৮৮সালে একটি রুশ ছবিও পরিচালনা করেন।

শশীর মৃত্যুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ টুইটারে এক শোকবার্তায় দুঃখ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শোক প্রকাশ করেন টুইট বার্তায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘শশী কাপুরের বহুমুখিতা তার চলচ্চিত্র ও মঞ্চে প্রকাশিত কাজগুলো তিনি করেছেন গভীর আবেগ নিয়ে। অভিনয় প্রতিভার কারণে তাকে মনে রাখবে আগামী প্রজন্মও। তার এই চলে যাওয়ায় দুঃখিত। সমবেদনা জানাই তার পরিবার ও ভক্তদের।’

শশী কাপুর ২০১১ সালে পদ্মভূষণ ও ২০১৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান। শশী কাপুর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।