চসিকের দুই হাজার ৪২৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

২০১৮-১৯ অর্থবছর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দুই হাজার ৪২৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ বাজেট ঘোষণা করেন। গত অর্থবছরের চেয়ে এবারের বাজেটের আকার প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ৬৯৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আসবে নিজস্ব উৎস থেকে। বাকি এক হাজার ৭৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ত্রাণ সাহায্য, উন্নয়ন অনুদান ও অন্যান্য উৎস থেকে আসবে।
চসিকের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিজস্ব উৎস থেকে প্রাপ্তি অর্থের বড় অংশ ধরা হয়েছে বকেয়া কর ও অভিকর খাতে। এ খাত থেকে ১৯১ কোটি আট লাখ টাকা আসবে, যা গত অর্থবছরে ধরা হয়েছিল ১৮১ কোটি ১২ লাখ টাকা। কিন্তু চসিক সেখানে আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া নিজস্ব উৎস থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চে আয় ধরা হয়েছে হালকর ও অভিকর থেকে ১৪৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ধরা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরে চসিক হালকর থেকে আয় করেছিল মাত্র ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য করাদি থেকে ধরা হয়ে ১৩৩ কোটি টাকা, ফিশ থেকে ৯৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, জরিমানা থেকে ৫০ লাখ টাকা, সম্পদ হতে অর্জিত ভাড়া ও আয় ৭৩ কোটি ১০ লাখ টাকা, সঞ্চয় থেকে আয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা, বিবিধ আয় ২৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ও ভর্তুকি থেকে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আয় ধরা হয়েছে মোট ৬৯৪ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এদিকে নিজস্ব উৎসের বাইরে আসবে এক হাজার ৭৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ত্রাণ সাহায্য থেকে ২০ লাখ টাকা, উন্নয়ন অনুদান থেকে এক হাজার ৬৮০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরে ২০ লাখ টাকা ত্রাণ সাহায্য খাতে ধরা হলেও এই খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ পায়নি চসিক। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উন্নয়ন অনুদান খাতে এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছি। কিন্তু অর্থবছর শেষে চসিক অনুদান পায় মাত্র ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা ৮৪৮ কোটি টাকা কম ছিল।
তবে ২০১৭-১৮ সালের সংশোধিত ও ২০১৮-১৯ সালের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে দুই হাজার ৩২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছিল। কিন্তু অর্থবছর শেষে চসিক আয় করেছে মাত্র ৮৮৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা পিছিয়ে ছিল চসিক। এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আগের বছর থেকে ৯৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে দুই হাজার ৪২৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে।
এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ব্যয় খাত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুই হাজার ৪২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার মধ্যে দুই হাজার ৪২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করে উদ্বৃত্ত থাকবে এক হাজার ৯৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছর এর পরিমাণ ধরা হয়েছিল এক হাজার ২১ কোটি টাকা। এদিকে মোট ব্যয়ের মধ্যে ৫৪২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক খাতে ২৭২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এছাড়া মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ভাড়া-কর ও অভিকর আট কোটি টাকা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি ৫১ কোটি টাকা, কল্যাণমূলক ব্যয় ২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ডাক তার ও দূরালাপনী এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা, আতিথেয়তা ও উৎসব চার কোটি, বিমা ৪৫ লাখ, ভ্রমণ এক কোটি ৭০ লাখ, বিজ্ঞাপন ও প্রচার ছয় কোটি, মুদ্রণ পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ, ফিশ বৃত্তি এক কোটি ২৩ লাখ, প্রশিক্ষণ ব্যয় ৭২ লাখ, বিবিধ ব্যয় ১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ও ভেন্ডর ব্যয় ৭৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের বাইরে ব্যয় হবে এক হাজার ৮৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ত্রাণ খাতে ২০ লাখ টাকা, বকেয়া দেনায় ১৭৩ কোটি ২০ লাখ, স্থায়ী সম্পদে ১২১ কোটি ৫০ লাখ, উন্নয়ন রাজস্ব তহবিল ও অন্যান্য খাতে ১৯৩ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কার্যক্রমে (এডিপি) এক হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।
তবে এই বাজেটে আয়ের বড় প্রাপ্তি ধরা হয়েছে বকেয়া কর ও অভিকর এবং উন্নয়ন অনুদান, যা গত অর্থবছরেও চসিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নের উত্তরে মেয়র নাছির বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গৃহকর আদায় করতে আমরা চেষ্টা করব। কর আদায়ের হার অতীতের তুলনায় বেড়েছে। আমরা করদাতাদের কাউন্সেলিং করেছি; কর প্রদান করা তাদের দায়িত্ব। সরকারি সংস্থাগুলো আগে কর প্রদানে অনীহা প্রকাশ করত। তাই আমরা সবগুলো মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছি। জনগণও এখন সহযোগিতার মনোভাব দেখাচ্ছে। এছাড়া উন্নয়ন অনুদান ও অতীতের যে কোনো বছরের তুলনায় বাড়বে। এটা নির্বাচনে বছর। তাই সরকার আগের তুলনায় বরাদ্দ বেশি দেবে। তাছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে আমরা অনেক টাকা পাব, অনেকগুলো প্রকল্প প্রি-একনেক হয়েছে। এগুলো কিছু দিনের মধ্যে একনেকে উঠবে। ফলে এ বাজেট বাস্তবায়নে চসিকের কোনো সমস্যা হবে না।’