চসিকের রিভিউ শুনানিতে হোল্ডিংয়ের মূল্য পুনর্নির্ধারণ

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি মোট এক লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আপিল জমা পড়েছে ৬৩ হাজার ৬৩৫টি। গত ২৯ অক্টোবর থেকে আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু করে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৯৩৭ নোটিসের বিপরীতে দুই হাজার ৬৬৭ আপিল নিষ্পত্তি করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। নিষ্পত্তিকৃত দুই হাজার ৬৬৭ হোল্ডিংয়ের বর্তমান ভ্যালু ৪২ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। চসিকের রিভিউ বোর্ড ১৪ দিনে ৩০ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার টাকা হ্রাস করে ১১ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে, যা মোট অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু থেকে ৭১ দশমিক ৮০ শতাংশ কম।

চসিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে আটটি সার্কেলে বিভক্ত করে একেক দিন এক বা একাধিক ওয়ার্ডের হোল্ডিং মালিকদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দিন সার্কেল চারের ১৪০ হোল্ডিং মালিককে নোটিস করা হয়। বিপরীতে আপিল নিষ্পত্তি হয় ১০২টি। প্রথম দিনে এক কোটি ৫৮ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকার অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালুর ওপর শুনানি শেষে তা নেমে দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ১৫ ?হাজার টাকা। দ্বিতীয় দিন আপিল বোর্ড পাঁচ নম্বর সার্কেলের ১২৫টি নোটিসের বিপরীতে ৯৯টি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করে। প্রস্তাবিত ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ভ্যালুর বিপরীতে আপিল বোর্ড ৬৬ দশমিক ০৯ শতাংশ কমিয়ে ২১ লাখ ৯০ হাজার ৯০০ টাকা ভ্যালু নির্ধারণ করে।

তৃতীয় দিন সার্কেল সাতের ২০০টি নোটিসের বিপরীতে ১৮৩টি নিষ্পত্তি করে আপিল রিভিউ বোর্ড। মূল ভ্যালুর ৮০ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমিয়ে আপিল বোর্ড ভ্যালু ধার্য করেছে ২২ লাখ তিন হাজার টাকা। শুনানির চতুর্থ দিনে রিভিউ বোর্ডে উপস্থিত হয় ১১৭ জন। রিভিউ বোর্ড হোল্ডারদের আপত্তি আমলে নিয়ে নির্ধারিত ভ্যালু থেকে গড়ে ৬৫.৫৪% ছাড় দিয়ে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু এক কোটি ৬৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা ভ্যালু ধার্য করেছে। পঞ্চম দিনে দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা থেকে ৬৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভ্যালু কমিয়ে ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন। একইভাবে ছষ্ঠ দিনে চার কোটি ৫২ লাখ টাকা থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ ভ্যালু হ্রাস করে এক কোটি ৩১ লাখ টাকা ধার্য হয়।

সপ্তম দিনে আপিল বোর্ড ১৫২ জনের শুনানি করে। ওইদিন তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ছিল। আপিল বোর্ড ৭১ শতাংশ হ্রাস করে ৯৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। অষ্টম দিন থেকে ১৪তম দিন পর্যন্ত যথাক্রমে প্রায় ৭৩, ৭৩, ৭০, ৭৫, ৭১, ৭৫, ৬৮ শতাংশ হারে ভ্যালু হ্রাস করে আপিল বোর্ড। এছাড়া ১৪ দিনে ১৯৫ জনকে গরিব পরিবারকে ৩০০ টাকা ভ্যালুয়েশন ধরে ৫১ টাকা বার্ষিক কর নির্ধারণ করে।

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে ৬৩ হাজার ৬৩৫টি আপিল জমা পড়েছে। আগামী ফেব্রæয়ারির মধ্যে পুরো রিভিউ শেষ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। এছাড়া যারা এখনও আপিল করেনি তাদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাবিবুল হক শেয়ার বিজকে বলেন, মেয়রের ঘোষণা অনুযায়ী যারা আপিল করবেন তাদের সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়া হবে গৃহকরের ক্ষেত্রে। এছাড়া অসচ্ছল হোল্ডিং মালিকদের গৃহকর মওকুফ করা হবে। এ পর্যন্ত ১৯৫ জনকে ৩০০ টাকা ভ্যালুয়েশন ধরে ৫১ টাকা বার্ষিক কর নির্ধারণ করা হয়।