সারা বাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিক্রি হচ্ছে মানহীন পানির জার

ফারুক আহমেদ চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: প্রয়োজনীয় মান পরীক্ষা ছাড়াই উৎপাদিত পানি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে। মানহীন পানি জারে ভরে বাজারজাত করছে একাধিক পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন পানিভর্তি শত শত জার বিভিন্ন অফিস, দোকান, রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেলে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা শুধু ঠকছেই না, ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। মানহীন পানি পান করে নানা অসুখ-বিসুখ ও স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
নামসর্বস্ব কোম্পানিগুলো পানি শোধন না করেই বাজারজাত করছে, এমন তথ্য মিলেছে। বিভিন্ন সময়ে মানহীন পানি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার। তবে বন্ধ না করায় ওইসব প্রতিষ্ঠান এখনও বাজারে মানহীন পানি সরবরাহ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএসটিআই সনদ দেওয়ার পর পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারক করে না। ফলে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ মানহীন ও দূষিত পানি খাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভোক্তা অধিকার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রক্রিয়াজাতসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাতটি প্রতিষ্ঠানের মানহীন পানি বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলী ড্রিংকিং ওয়াটার নামে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান পানির মান পরীক্ষা করে উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।
বিএসটিআই’র সনদ নিয়ে পানি উৎপাদনে মান পরীক্ষা হচ্ছে কি না সেটির তদারকি শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভোক্তা অধিকারের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার আটটি পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলী ড্রিংকিং ওয়াটার ছাড়া বাকি সাতটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম রয়েছে।
জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোবাদ আলী স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনের মন্তব্য কলামে উল্লেখ্য করা হয়েছে, আলী ড্রিংকিং ওয়াটারের ল্যাব ও কেমিস্ট আছে, প্রতি লটে পানি পরীক্ষা করা হয়। জিবাস ড্রিংকিং ওয়াটার ও রেহেনা ড্রিংকিং ওয়াটারের ল্যাব আছে, তবে প্রতি লটে পানি পরীক্ষা করা হয়, এমন তথ্য নেই। লুসিড ও মা ড্রিংকিং ওয়াটারের ল্যাব ও কেমিস্ট নেই। ওই প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, সেবা ও তন্নী ড্রিংকিং ওয়াটার বন্ধ রয়েছে। বালিয়াডাঙ্গার সল্লায় সেবা ড্রিংকিং ওয়াটারে পানি তৈরি হচ্ছে, তবে ল্যাব ও কেমিস্ট আছে কি না, সেটি উল্লেখ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক জানান, মানহীন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে মানহীন পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা করা হচ্ছে। শুধু মানহীন পানি নয়, খাদ্যের সামগ্রিক ভেজাল বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানের আওতায় মানহীন পানি পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ..