হোম সম্পাদকীয় চাই পাটের উৎসাহব্যঞ্জক দাম

চাই পাটের উৎসাহব্যঞ্জক দাম


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

উৎসাহব্যঞ্জক দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাটচাষিরা। এ তথ্য উঠে এসেছে একাধিক অঞ্চল থেকে পাঠানো আমাদের প্রতিনিধির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় আগামী বছর পাট চাষ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকে। এ থেকে বোঝা যায়, এবার পণ্যটির চাষ কতটা হতাশ করেছে তাদের। আগামীতে চাষিরা এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে দেশে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাট উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়বে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এ খাত থেকে রফতানি আয়। দেশীয় ভোক্তারাও পড়বেন কিছুটা ভোগান্তির মুখে। এজন্য পাটের উৎপাদন যে স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন, তাতে সন্দেহ নেই।

শেয়ার বিজে সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে কিছু এলাকায় এবার পাট চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে উৎপাদিত পাটের পরিমাণ কমেছে, মানও ততটা ভালো হয়নি। এ কারণে ব্যবসায়ীরাও উৎসাহী হচ্ছেন না বেশি দাম দিয়ে এটি কিনতে। অন্যদিকে চাষিরা চাইছেন উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে, তার থেকে কিছুটা বেশি দাম। এ অবস্থায় সরকারের উচিত হবে কিছু ভর্তুকি দিয়ে হলেও উৎসাহব্যঞ্জক দামে চাষিদের কাছ থেকে এটি কিনে নেওয়া। এজন্য পাট উৎপাদন অঞ্চলে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করা যেতে পারে। চাষিদের কাছ থেকে পাট সরকারিভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থা না হলে এবার এর উৎসাহব্যঞ্জক দাম জোগানো কঠিন হয়ে পড়বে।

অর্থনীতির নিয়ম হলো, জোগান অপরিবর্তিত থাকা অবস্থায় চাহিদা বৃদ্ধি পেলে পণ্যের দাম বাড়ে। এ অবস্থায় চাষিকে উৎসাহব্যঞ্জক দাম জোগানোর জন্য পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার জন্য দেশে আইন রয়েছে। এর আওতায় রয়েছে ১৭টি পণ্য। উল্লিখিত পণ্যের ব্যবসায় ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা পাটজাত মোড়ক ব্যবহার করছেন কি না, সে ব্যাপারে তদারকি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ তালিকায় আরও পণ্য সংযোজন করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও ভাবতে হবে। যেসব পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক, সে সংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের ব্যাপারেও তদারকি বাড়াতে হবে। দেশীয় বাজারে বিদ্যমান চাহিদা যদি ধরে রাখা না যায়, তাহলে শুধু রফতানির ওপর নির্ভর করে এ পণ্যের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে না। আমদানিকারকরা যে প্রতিযোগী দেশগুলোয় উৎপাদিত পাটের মান বিবেচনায় রাখবেন, মনে রাখতে হবে সেটিও।

কোনো পণ্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা অনেকটা নির্ভর করে তার উৎসাহব্যঞ্জক দাম প্রাপ্তির ওপর। প্রকৃতির আনুকূল্যও প্রয়োজন পাট উৎপাদনের ক্ষেত্রে। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে কৃত্রিম তন্তু ও প্লাস্টিকজাত মোড়ক ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এখন। বাস্তবতা হলো, পাটপণ্যের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করতে হলে এগুলোকে তৈরি করতে হবে আকর্ষণীয় রূপে। যারা এসবের উদ্যোক্তা, সেদিকেও তাদের রাখতে হবে দৃষ্টি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কোনো পণ্যকে টিকে থাকতে হয় তার সমজাতীয়, বিকল্প ও পরিপূরকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। পাটপণ্যের ক্ষেত্রেও বাজারে একই বাস্তবতা বিদ্যমান। একে টিকে থাকতে হবে শুধু ব্যবহার উপযোগিতায় নয়, একই সঙ্গে মান ও দামে। এজন্য উদ্যোক্তাদের যেসব কাঠামো ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রয়োজন, তাও জোগাতে হবে সরকার। সোনালি আঁশ উৎপাদনের কারণে একসময় বিশ্বদরবারে পরিচিত ছিল বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতি আর পরিবেশের স্বার্থেও পণ্যটির উৎপাদন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না।