চার্লির নীলকুঠি

বড়বাজারের সঙ্গে চার্লির নীলকুঠির সম্পর্ক রয়েছে। আসুন জেনে নিই সে ইতিহাস। ১৭৯৫ সালে ইংরেজ নীলকর বন্ড যশোরের রূপদিয়ায় প্রথম নীলের কারখানা নির্মাণ করেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় ব্রিটিশদের অত্যাচারের ইতিহাস। ১৮০১ সালে খুলনার দৌলতপুরে নীলকর অ্যান্ডারসন নীলকুঠি নির্মাণ করেন। এরপর শহরের কেন্দ্রস্থলে নীলকর চার্লস নীলকুঠি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, এটিই খুলনা শহরের প্রথম পাকা দালান বাড়ি।

নীলকর চার্লস তার বাড়ির পূর্ব পাশে ভৈরব নদের তীরে যে হাটটি গড়ে তোলেন, তা চার্লিরহাট বা সাহেবের হাট নামে পরিচিত ছিল। প্রতিষ্ঠাতার নামে এমন নামকরণ হয়। কুঠিবাড়ি থেকেই হাটটি পরিচালনা করতেন চার্লস। শহর হিসেবে খ্যাত হওয়ার আগে খুলনার পরিচিতি ছিল এই হাট ঘিরে।

ব্রিটিশ আমলে বৃহত্তর যশোরের অনেক স্থানে কিছু নীলকুঠি ও নীলকরের বাড়ি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে চার্লির কুঠিবাড়ি অন্যতম।

চার্লস চোলেট চার্লি নামেও পরিচিত ছিলেন। নামকরা নীল কুঠিয়াল ছিলেন তিনি। জনশ্রুতি আছে, তিনি ছিলেন স্থানীয় লবণ এজেন্সির প্রধান ইওয়ার্টের সহযোগী। অন্য নীলকুঠির মতো চার্লির বাড়িটিও ছিল নীলকরদের কেন্দ্র।

চার্লির বাড়িটি এক সময় ইন্ডিয়ান জেনারেল নেভিগেশন অ্যান্ড রেলওয়ে কোম্পানির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহƒত হতো। পরে বাড়িটি নেভিগেশনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্বাধীনতার পর বাড়িটিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আঞ্চলিক কার্যালয় করা হয়।

প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো বাড়িটিকে ২০০১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। প্রায় ৪৩ শতাংশ জমির ওপর দোতলা বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইট-বালি, চুন-সুরকি, লোহার খাম্বা ও কাঠের পাটাতন দিয়ে নির্মিত এটি। বাড়ির ছাদ মাটির টালির। টালির নিচে পার্টিকেল। বাংলো ঘরানার বাড়িটির ওপরতলায় তিনটি ও নিচতলায় চারটি কামরা রয়েছে। কামরাগুলোর সামনে আছে বড় খোলা বারান্দা। বারান্দায় রয়েছে কাঠ ও লোহার রেলিং। দোতলায় ওঠার জন্য পূর্ব-দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে রয়েছে সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া সিঁড়ি।

কিছু সমস্যা বিকিকিনি ভালো হলেও কিছু সমস্যা রয়েছে বড়বাজারে। এর কয়েকটি:

  1. যানজট
  2. জলাবদ্ধতা
  3. বিদ্যুৎ সংকট
  4. ঘিঞ্জি পরিবেশ
  5. ভৈরব নদের ভাঙন
  6. বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বেহাল
  7. সংকীর্ণ রাস্তায় বড় গাড়ি ঢোকার পথ নেই
  8. শহররক্ষা বাঁধের অস্তিত্বও প্রায় বিলীনের পথে
  9.  বেশিরভাগ সময় ট্রাকের দখলে থাকে বড় রাস্তাগুলো
  10. প্রবেশপথগুলোর সিংহভাগ অবৈধ দখলদারদের দখলে
  11. ড্রেনের ওপর ঘর তুলে গুদাম বানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী
  12. ভৈরবের পাড়ে বাঁশের মাচার ওপর অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন
  13. জুতাপট্টির মোড় থেকে বটতলা পর্যন্ত ভৈরবের কোল ঘেঁষা রাস্তাটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে