প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

চার হাজার ২৪৭ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা

দুর্ভোগ বাড়বে ঈদযাত্রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে প্রায় সোয়া চার হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা। এর মধ্যে বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন সড়ক। ফলে ভালো সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে এবার ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ঈদুল আজহার সাত দিন আগে এসব সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের নির্দেশনা জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এইচডিএম) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা। আর ২৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ মোটামুটি চলনসই। বাকিগুলো ভালো অবস্থায় আছে। ভাঙাচোরা সড়কের কিছু অংশে হালকা বা ভারী মেরামত প্রয়োজন। বাকি সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর নভেম্বর থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত সরেজমিন পর্যবেক্ষণে এইচডিএম প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে অনেক সড়ক নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন নতুন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে। তাই বন্যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া বৃষ্টি ও বন্যায় মেরামত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান মাঠপর্যায়ের সওজের প্রকৌশলীরা।
এইচডিএম প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সওজের আওতাধীন সড়কের মধ্যে ভালো অবস্থায় আছে আট হাজার ৭২৩ কিলোমিটার। বাকি অংশের মধ্যে চার হাজার ৪৮২ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক মোটামুটি চলনসই। আর চার হাজার ২৪৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এর মধ্যে জেলা সড়কগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আর জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা তুলনামূলকভাবে কম খারাপ।
সমীক্ষায় বিবেচিত তিন হাজার ৫৭০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে দুই হাজার ৯৬ কিলোমিটার বা প্রায় ৫৯ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। মোটামুটি চলনসই অবস্থায় আছে প্রায় ১৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়ক। বাকি ২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে খানাখন্দ রয়েছে।
এদিকে তিন হাজার ৭৭১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে দুই হাজার ১০৬ কিলোমিটার বা প্রায় ৫৬ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আর ২১ শতাংশ মোটামুটি চলনসই ও ২৩ শতাংশ ব্যবহার অনুপযোগী। আর ১০ হাজার ১১১ কিলোমিটার জেলা সড়কের চার হাজার ৫২১ কিলোমিটার বা ৪৫ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। মোটামুটি চলনসই জেলা সড়ক ৩০ শতাংশ। আর ২৫ শতাংশ জেলা সড়ক অব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
যদিও গত সোমবার ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এবার ঈদে সড়ক যানজটের কারণ হবে না। দেশের বন্যাকবলিত এলাকায় সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে। তবে মহাসড়কে কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কোনো কারণ নেই, সব গুড শেইপে রয়েছে এবং সামনেও ভালো থাকবে।
এদিকে ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়কের চলমান জরুরি মেরামত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সভায় মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সওজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাঙাচোরা জাতীয় মহাসড়কগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর দুই হাজার ৫৭৪ কিলোমিটার মেরামত করতে হবে। আর ৪০৮ কিলোমিটার আংশিক ও ৫৬৭ কিলোমিটার পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। একইভাবে আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর তিন হাজার ২২ কিলোমিটার মেরামত এবং ২৭৬ কিলোমিটার আংশিক ও ৬২৭ কিলোমিটার পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আর জেলা সড়কের সাত হাজার ৩৬২ কিলোমিটার মেরামত এবং বাকিটা আংশিক বা পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
ভাঙাচোরা এসব সড়ক মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করতে ১০ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। তবে মেরামত খাতে এ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ নেই। এছাড়া বন্যার পানি না কমায় বিভিন্ন সড়কের প্রকৃত চিত্র এখনও বোঝা যাচ্ছে না। ফলে ঈদের আগে সব সড়ক-মহাসড়ক মেরামত শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে।
জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা অব্যাহত আছে। এতে ভাঙাচোরা সড়কের সঙ্গে ভালো সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যদিও সড়ক-মহাসড়ক ঠিক রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীরা। তবে ঈদুল আজহার আগে বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা না দিলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা খুব একটা কষ্টকর হবে না।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..



/* ]]> */