বাণিজ্য সংবাদ

চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত চুয়াডাঙ্গায়

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা: ঈদুল আজহা সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন উপজেলায় পশু মোটা-তাজা করার কাজে ব্যস্ত খামারিরা। স্থানীয় পর্যায়ে এখনও পশুর হাট না জমলেও পশুর হাটে বেচা-বিক্রি বাড়ছে। গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুতে লাভবান হওয়ায় এবার জেলায় খামারের সংখ্যা বেড়েছে। সরবরাহ বাড়ায় এবার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৭৯ হাজারের বেশি কোরবানিযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়। ফলে এসব অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। খামারিদের মনে করছেন, ভারত থেকে গরু না এলে দেশের বাজারে গরুর দাম ভালো থাকবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার ৬৩৩টি। এর মধ্যে রয়েছে গরু ও মহিষ মিলে ৩৭ হাজার ৩৭৪টি এবং ছাগল ও ভেড়া মিলে এক লাখ ৪৩ হাজার ২৫৯টি।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশু গরু ও মহিষ মিলে সাত হাজার ৩৬৩টি এবং ছাগল ও ভেড়া মিলে রয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬৫টি। আলমডাঙ্গা উপজেলায় গরু-মহিষ মিলে ছয় হাজার ৫০৭টি এবং ছাগল ও ভেড়া মিলে রয়েছে ১১ হাজার ৯০৫টি। দামুড়হুদা উপজেলায় গরু ও মহিষ মিলে ১১ হাজার ৬৭৫টি এবং ছাগল ও ভেড়া মিলে রয়েছে ১৩ হাজার ৯০১টি। জীবননগর উপজেলায় গরু ও মহিষ মিলে ছয় হাজার ৩৭৬টি এবং ছাগল ও ভেড়া মিলে রয়েছে ৩৪ হাজার ৫৫৩টি।
আলমডাঙ্গা উপজেলার মাজহাদ গ্রামের খামারি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাজ্জাজ বিন তাহাজ জানান, তিনি অনলাইনে গরুর ছবি দেখে পছন্দ করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু ক্রয় করে খামারে চাষ করেন। তিনি জানান, নিজের খামারে এবার ৪৯টি গরু পালন করেছিলেন। এর মধ্যে ৩৫টি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রথম দফায় ১৯টি গরু এক কোটি দুই লাখ টাকায়, দ্বিতীয় দফায় আটটি গরু ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং বাকি আটটি গরু ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খামারি লিটন মিয়া জানান, এলাকায় অন্যান্য খামারির গরুতে মুনাফা হতে দেখে তিনি চুয়াডাঙ্গা, ডুগডুগি ও শেয়ারমারী গরুর হাট থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫০ হাজার টাকা দরে আটটি গরু কিনে পালন শুরু করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে তিনটি গরু দুই লাখ ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি গরুগুলো তিনি বিক্রি করে দেবেন।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাধীন হাজরাহাটী গ্রামের দাউদ মণ্ডলের ছেলে মইনদ্দীন জানান, ভারত থেকে গরু না এলে দেশের বাজারে গরুর দাম ভালো থাকে। বিগত বছর তারা গরুর বাজার ভালো পেয়েছিল। ভারতের গরু কম-বেশি প্রতিদিনই বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, গরু ক্রয়, খামার, গরুর খাবার, শ্রমিক ব্যয়, লালন-পালন, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে গরুর দাম হিসাব করা হয়। তিনি আরও জানান, কোরবানি সামনে রেখে আটটি গরু ৮০ হাজার টাকা দরে কিনেছিলাম। আটটি গরু লালন-পালন করতে প্রতি মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়। তিনি আশা করছেন, আটটি গরুতে খরচ বাদে তিন লাখের ওপর লাভ হবে।
দামুড়হুদা উপজেলার চারুলিয়া গ্রামের নাসিরুল আলম জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভেড়া পালন করে আসছেন। তার খামারে ৩৯০ থেকে ৪০০ ভেড়া সব সময় থাকে। তিনি ২০টি ভেড়া নিয়ে তার খামার শুরু করেছিলেন। তিনি জানান, শুধু কোরবানি নয়, সারা বছরই বিভিন্ন উৎসবে ভেড়া বিক্রি করেন। তিনি বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ভেড়া বিক্রি করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ হা ম শামিমুজ্জামান জানান, এ জেলায় বাইরে থেকে কোনো পশু না এলেও সমস্যা হবে না। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় জেলায় ছাগল ও ভেড়া উদ্বৃত্ত থাকবে ৫৬ হাজার ৬২৮টি আর গরু-মহিষ উদ্বৃত্ত আছে ২২ হাজার ৯১৮টি।

সর্বশেষ..