চাহিদা তিন হাজার কোটি বরাদ্দ ১৮০০ কোটি টাকা

সড়ক-মহাসড়ক মেরামত

ইসমাইল আলী: চলতি অর্থবছর সড়ক-মহাসড়ক মেরামতে প্রয়োজন তিন হাজার ২৯ কোটি টাকা। এজন্য কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তবে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র এক হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। এতে সড়ক-মহাসড়ক মেরামত বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী বর্ষায় সড়কগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এজন্য সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে আবার চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

এতে বলা হয়েছে, গত বছর জুনে ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের ফলে রাঙামাটিসহ তিন পাবর্ত্য জেলার মহাসড়ক পাহাড়ধসের কারণে বিধ্বস্ত হয়। পরে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে মহাসড়ক নেটওয়ার্কও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কের কিছু অংশ তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়। এছাড়া পাবর্ত্য তিন জেলার সড়কগুলো মেরামতে অতিরিক্ত ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তবে অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের বিদ্যমান বরাদ্দ থেকে এ অর্থ ব্যয়ের পরামর্শ দেয়।

পরবর্তী সময়ে বন্যা ও অতিবৃষ্টির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক স্বল্পমেয়াদি মেরামতে আরও অতিরিক্ত ১৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় অর্থ বিভাগে। তবে এক্ষেত্রেও চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে এ ব্যয় নির্বাহের পরামর্শ দেয় অর্থ বিভাগ। সর্বশেষ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৯৪৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়। তবে অর্থ বিভাগ এ খাতে মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর বাজেটে সড়ক-মহাসড়ক মেরামতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এক হাজার ৭০৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর সঙ্গে আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় এ খাতে এক হাজার ৮০৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়ে গেছে। যদিও এ খাতে আরও এক হাজার ৯২ কোটি ৫২ লাখ টাকা প্রয়োজন। এছাড়া ঠিকাদারদের পুরোনো বিল বাবদ আরও ১৩২ কোটি ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে তিন হাজার ২৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা প্রয়োজন।

বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে এরই মধ্যে ৭৬৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন কর্মসূচি পিএমপি (মেজর) নিতে হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী কর্তৃক চিম্বুক-থানচী ৫৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, বান্দরবান-চিম্বুক ২৩ কিলোমিটার, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ৪৮ কিলোমিটার ও দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়ক ৫১ কিলোমিটার মেরামতের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক হাজার ৯২ কোটি ৫১ লাখ টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন।

এর বাইরে সিএজি কার্যালয়ের বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের ২০১১-১২ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বকেয়া পরিশোধের জন্য চলতি অর্থবছর ১৩২ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দরকার। এজন্য সংশোধিত বাজেটে আরও এক হাজার ২২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হলো।

জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, অর্থ বিভাগের নির্দেশে এরই মধ্যে বিদ্যমান বরাদ্দ থেকে সড়ক-মহাসড়কে স্বল্পমেয়াদি মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী মেরামতেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এজন্য চলতি অর্থবছর আরও এক হাজার ২২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা দরকার। এ বরাদ্দ পাওয়া না গেলে সড়ক মেরামত কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে আগামী বর্ষায় সড়ক-মহাসড়কগুলো সচল রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে।