চাহিদা বেড়েছে ব্যাংক বিমা আর্থিক খাতের

রুবাইয়াত রিক্তা: আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমলেও পুঁজিবাজার সার্বিকভাবে ইতিবাচক গতিতে ছিল। প্রধান সূচক ও ডিএস৩০ সূচক ইতিবাচক গতিতে থাকলেও কমেছে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক। বেড়েছে ৫২ শতাংশ শেয়ারের দর। কমেছে ৩৮ শতাংশের। তবে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেশি ছিল। শুরুতে যে গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয় শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত না থাকলেও ডিএসইএক্স সূচক ১৫ পয়েন্ট ইতিবাচক হয়। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর হিসাববছর শেষ হয়ে আসছে। সামনে আসবে তাদের লভ্যাংশের ঘোষণা। স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখন ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিতে। এ কারণেই গতকাল ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাতের শেয়ারের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। দরবৃদ্ধির পাশাপাশি এসব খাতে লেনদেনও বেড়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় বস্ত্র খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশ বা ১৭৭ কোটি টাকা। এ খাতে ৪৭ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে আরএন স্পিনিং। এছাড়া ফ্যামিলি টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনিং ও জাহিন টেক্সটাইল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। এসব শেয়ারের দর সাত থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ড্রাগন সোয়েটার। কোম্পানিটির ৩৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। এছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সের ২০ কোটি, সায়হাম কটনের প্রায় ১৭ কোটি ও এমএল ডায়িংয়ের প্রায় ১৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৬ শতাংশ। বিক্রির চাপে এ খাতে মাত্র ৩৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। অ্যাম্বি ফার্মার দর সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। অ্যাডভেন্ট ফার্মার সোয়া ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও দরপতন হয়। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৫০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ওয়েস্টার্ন মেরিনের সাড়ে ২২ কোটি টাকা ও বিবিএস কেব্লসের সাড়ে ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ব্যাংক খাতে ৭৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে সাড়ে ২১ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে দুই টাকা ৩০ পয়সা। বিমা খাতে ৭৯ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের ইসলামিক ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। আর্থিক খাতে লেনদেন বেড়েছে সোয়া ১২ কোটি টাকা। এ খাতে ৬৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। গতকাল তথ্য ও প্রযুক্তি খাত শতভাগ নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। সিমেন্ট খাতে ৮৬ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৬১ শতাংশ ইউনিটের দর বেড়েছে। ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর ১০ শতাংশ বেড়েছে।