চিকিৎসায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সক্ষমতা বাড়ান

 

শনিবার রাজধানীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এনআইএএনইআর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের চিকিৎসা খাতের ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ও জরুরি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে অনেক উন্নত যন্ত্রপাতি থাকলেও এগুলো পরিচালনায় দক্ষতাসম্পন্ন লোকের অভাব রয়েছে। এগুলোর রিপোর্ট রিড করতে সক্ষম মানুষও দেশে কম। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে দেশের চিকিৎসা খাত-সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হওয়া দরকার। এসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো গেলে দেশেই নিশ্চিত করা যাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা। তাতে এ লক্ষ্যে মানুষের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতাও কমানো যাবে এবং সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরিতে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি বড় ভূমিকা রাখবে বলেই আশা।
একসময় দেশে অভাব ছিল চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। সেটা আমরা কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠেছি। এ লক্ষ্যে মানসম্পন্ন বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বেসরকারি খাতেও। এর মাধ্যমে চিকিৎসক সংকট কাটানো কিছুটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে চিকিৎসা-প্রযুক্তি খাতে দক্ষতাসম্পন্ন লোকবল যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হবে না। মনে রাখা চাই, রোগ নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি অনেকটাই যন্ত্রনির্ভর আর চিকিৎসা বিজ্ঞান উৎকর্ষ লাভ করছে নিয়মিতভাবে। চিকিৎসা-প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতায় পিছিয়ে থাকলে এ সেবা গ্রহণে বিদেশগমন প্রবণতা অব্যাহতভাবে বাড়বে। মনে রাখা দরকার, একসময় মানুষ রোগাক্রান্ত হলেই কেবল শরণাপন্ন হতো চিকিৎসকের। এখন সুস্থাবস্থায়ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার চর্চা বেড়ে উঠেছে বিশেষত সচ্ছল পরিবারে। চিকিৎসায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ে দক্ষতা বাড়ানো না গেলে একে ঘিরে বৈদেশিক মুদ্রা খরচও অব্যাহতভাবে বাড়বে বলে ধারণা। এজন্য পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনে সরকারের উদ্যোগও আমরা প্রত্যাশা করি।
বাংলাদেশ থেকে কাজের খোঁজে বিভিন্ন দেশে যারা যান, তাদের মধ্যে কিছু চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন। চিকিৎসা-প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে আমাদের জনশক্তির চাহিদা বাড়বে, তাতেও সন্দেহ নেই। টেকনিক্যাল এডুকেশন বিস্তারে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে এখন। চিকিৎসা-প্রযুক্তি শিক্ষা প্রসারে কিছু স্থানে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান কি স্থাপন করা যায় না? এ ইস্যুতে নীতিনির্ধারকদের সুবিবেচনা প্রত্যাশিত। নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপের মতো দেশের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের চিকিৎসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটানো গেলে ওইসব দেশ থেকে আরও শিক্ষার্থী আনা সম্ভব। চিকিৎসার মানোন্নয়ন ঘটানো গেলে অন্য দেশ থেকে রোগীরাও আসবে বাংলাদেশে। একে ঘিরে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পর্যটন খাতেও। সর্বোপরি, শুধু বৈদেশিক মুদ্রার অযাচিত বহির্গমন ঠেকাতে নয় আধুনিক চিকিৎসা-প্রযুক্তি ব্যবহারে সবার আগে আমাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে দেশের মানুষকে উন্নত ও নির্ভুল চিকিৎসা জোগানোর স্বার্থেই।