চীনা কনসোর্টিয়ামের অর্থ নিয়ে আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: চীনা কনসোর্টিয়ামের অর্থ এলে পুঁজিবাজারের চিত্র বদলে যাবেÑ এমনটি মনে করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের অভিমত, এই অর্থ এলে বাজারে গতি ফেরার পাশাপাশি লেনদেন বাড়বে। তবে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিতে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, চীনের অর্থবাজার আসার মধ্য দিয়ে তারা পুরোপুরিভাবে ডিএসইর সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার লেভেল বাড়বে। পাশাপাশি সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে। ফলে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়া পুঁজিবাজার যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি দেশের অর্থনীতির জন্যও এটি কল্যাণ বয়ে আনবে। তাদের যুক্তি, চীনা কনসোর্টিয়াম দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হলে তারা মালিকানা পাবে। আর মালিকানা পেলে অবশ্যই তারা এ মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করবে। মার্কেটে যুক্ত হবে নতুন নতুন পণ্য, আসবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।
চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ বাড়বে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে তাদের বিনিয়োগ, যা পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে। চীনের টেকনোলজি যুক্ত হলে সার্ভিল্যান্স আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তারা। তাদের অভিমত, এর ফলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতার জায়গাটি আরও পরিষ্কার হবে। চীনের পুঁজিবাজারে অসংখ্য বড় বিনিয়োগকারী রয়েছেন। তাদের কিছু অংশ যদি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন, তবে এ বাজার আরও শক্তিশালী হবে।
এ-প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, এই অর্থ এলে বাজারে গতি ফিরবেÑতা বলা মুশকিল। তবে চীনের পুঁজিবাজার আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। আর তাদের আস্থা বাড়লে নিশ্চয়ই পুঁজিবাজার তার গতি ফিরে পাবে।
একই প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, খুব শিগগির আমরা এই অর্থ হাতে পাব। অর্থ পাওয়ার পর আমরা ধীরে ধীরে তা পুঁজিবাজারের ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করব। এটা নিশ্চয়ই বাজারের জন্য
ইতিবাচক হবে।
তাদের মতে, চীনা কনসোর্টিয়ামের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পুঁজিবাজারে। তাদের টেকনোলজিতে আরও শক্তিশালী হবে সার্ভিল্যান্স। চীনা কনসোর্টিয়াম আসার ফলে ম্যানেজমেন্টের পরিবর্তন আসবে। উন্নত প্রশিক্ষণের ফলে তাদের আরও পরিণত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। চীনের পুঁজিবাজারে অনেক বড় বিনিয়োগকারী রয়েছেন। তারা যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন, তা অবশ্যই বাজারের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সব মিলে আন্তর্জাতিক রূপ পাবে বাজার। কেটে যাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট।
একই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, চীনা কনসোর্টিয়াম হয়তো দ্রুত খুব বেশি পরিবর্তন করতে পারবে না। তবে এটা ভবিষ্যতের জন্য ভালো। তারা আসায় একই সঙ্গে আমাদের পুঁজিবাজার ও অর্থনীতি দুটিই উর্বর হবে। তিনি বলেন, বাজারে এখন ভালো কোম্পানির সংখ্যা কম। তাই দ্রুত বাজারের চিত্র পাল্টাতে হলে ভালো কোম্পানি নিয়ে আসতে হবে।
সম্প্রতি কিছু শর্তসাপেক্ষে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো, যাবতীয় কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইন ও দেশের প্রযোজ্য অন্যান্য আইনসহ ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন-২০১৩ এবং ডিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী পরিপালন কতে হবে। এ চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া কমিশনের পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত শর্তাবলি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পরিবর্তন করা যাবে না।
এর আগে সোমবার চীনের দুই পুঁজিবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদন দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডাররা।
সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ডিএসইর পার্টনার হতে ২২ টাকা দরে ২৫ শতাংশ শেয়ার নিতে আবেদন করে। পাশাপাশি কনসোর্টিয়ামটি ৩৭ মিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু বিএসইসি নানা শর্তে আটকে দেয় চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব।
চীনা কনসোর্টিয়ামকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তার বেশিরভাগই ছাড় চেয়েছিল তারা। পরে নতুন করে আরও কিছু শর্ত দেয় কমিশন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য চীনা প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। ডিএসই ও বিএসইসির সঙ্গে বৈঠক করে। কমিশনের শর্তগুলো পর্যালোচনার পর চীনা প্রতিষ্ঠানটি নমনীয়তা দেখায়। একই সঙ্গে ডিএসইকে জানায় ইতিবাচক অবস্থানের কথা। পরবর্তীকালে গত সপ্তাহে চীনা কনসোর্টিয়ামকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বিএসইসি।
প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে ডিএসইর শেয়ার বিক্রির অর্থ আজ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ননরেসিডেন্ট ইনভেস্টরস অ্যাকাউন্টে (নিটা) জমা হবে। পরদিন তা আসবে ডিএসইতে। চীনের দুই পুঁজিবাজার সাংহাই ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইর শেয়ার বিক্রির ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৫ টাকা দেবে।