চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রভাব নেই বাজারে!

রুবাইয়াত রিক্তা: চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত চীনা কনসোর্টিয়াম এখন দেশের পুঁজিবাজারের একটি অংশ। নানা সংশয়, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এবং অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত অংশীদার নির্বাচন করেছে নীতিনির্ধারক মহল। এতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশা, আনন্দ, উদ্যম দেখা যাওয়ার কথা। অথচ বাজার নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন তারা। এতদিন দেখা গেছে, সামান্য একটি খবর তা রাজনীতিক বা সামাজিক যাই হোক না কেন তাতেই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক বা ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। অথচ পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ মানুষের বহু কাক্সিক্ষত চীনা কনসোর্টিয়াম যখন পুঁজিবাজারে এলো তখন তার সামান্যতম প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং বাজারের গতি দেখে মনে হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা এই চুক্তিতে মোটেও খুুশি নন। অথচ এই চীন-ভারত দ্বন্দ্বে পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ছিল। তাই বলা যায়, আমাদের দেশের পুঁজিবাজার সত্যিই রহস্যময়। একে বোঝা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে অসম্ভব। তবে বাজার-সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিমত, বড় বিনিয়োগকারীরা লেনদেন বন্ধ রেখে সূচকের আরও পতন ঘটিয়ে তারপর বিনিয়োগ শুরু করবেন।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরুর দিকে সূচক বাড়ার চেষ্টা থাকলেও শেষ দেড় ঘণ্টায় বিক্রির চাপে সূচকের পতন হয়। সব খাতেই বিক্রির প্রবণতা বেশি ছিল। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ২২ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ২৭ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। মুন্নু স্টাফলারের ছয় শতাংশ এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চার শতাংশ দর বেড়েছে। প্রায় ২৮ কোটি টাকার লেনদেন করে বাজারে নেতৃত্ব দিয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। এছাড়া বিএসআরএমের সাড়ে সাত কোটি ও বিবিএস কেব্লসের সাড়ে ছয় কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতের ৩৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। কুইন সাউথের প্রায় ১০ শতাংশ দরবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রায় ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর ১০ শতাংশ করে লেনদেন হয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বিবিধ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। জ্বালানি খাতে ৩৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ১৭ কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে প্রায় চার শতাংশ। বিবিধ খাতে ৫০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। বেক্সিমকোর প্রায় ১৮ কোটি টাকার লেনদেন হলেও দর কমেছে ৭০ পয়সা। ওষুধ খাতে ৪৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের অ্যাম্বি ফার্মা দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। তবে ছোট খাতগুলোর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি, চামড়া শিল্প, সিরামিক খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে।