চীনের কাছে পণ্য বিক্রি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : দুই দফায় আলোচনার পর দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ বন্ধ রাখতে একমত হয় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এর কিছুদিন পরই মার্কিন প্রসাশন আবারও বাণিজ্য উত্তেজনা উসকে দিয়েছে, তারা বলেছে চলতি জুনেই পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ করবে। এতে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। এর সঙ্গে যোগ হয় ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে আবারও আলোচনার জন্য চীনে গেছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস। বিশ্লেষকরা বলছেন, আরও বেশি মার্কিন পণ্য ও জ্বালানি চীনের কাছে বিক্রি নিশ্চিত করতেই এবারের চীন সফরের প্রধান লক্ষ্য রসের। খবর রয়টার্স।
গত শনিবার মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী বেইজিংয়ে পৌঁছান। সাংবাদিকদের তিনি কিছু না বললেও আজ রোববার চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হি’র সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। এমন সময়ে চীনে গেলেন তিনি, যখন ইউরোপ, মেক্সিকো, ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ জোরালো হয়েছে। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্কারোপের জবাবে তারারও পাল্টা শুল্কারোপের কথা ভাবছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্যমতে, চীনের সঙ্গে ২০১৬ সালে দেশটির পণ্য ও সেবা বাণিজ্য হয়েছে ৬৪৮ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে চীন দেশটিতে রফতানি করেছে ৪৭৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনে রফতানি করেছে ১৬৯ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ওই বছর চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্লেষকরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে তাদের কাছ থেকে আরও বেশি পণ্য ও জ্বালানি ক্রয় করে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে নিক চীন। এ লক্ষ্যেই চীন সফরে গেছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফায় একে অন্যের ওপর শুল্কারোপের হুমকি দিলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধ এড়াতে চেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদল বেইজিংয়ে আলোচনায় বসে। এতে সব বিষয়ে একমত না হতে পারলেও চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমে। বাকি বিষয়গুলো সমাধানে ওয়াশিংটনে ফের আলোচনায় বসেছেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা। ওয়াশিংটনের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের মাধ্যমে বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ করবে বলে জানায়। বাণিজ্যবিষয়ক এ আলোচনা চলাকালে কোনো শুল্কারোপ করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন। সমালোচকরা তখন অভিযোগ করেন, চীনের সঙ্গে নরম আচরণ করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে গত সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ১৫ জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা কোনো কোনো পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করা হবে তার একটি চ‚ড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় চীন জানিয়েছে, তারা একই সঙ্গে অবাক হয়েছে আবার অবাক হয়নি। এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, কয়েক দিন আগে ওয়াশিংটনে দুই পক্ষ যে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই সে ঐকমত্যের বিরোধী।