চীনের শিল্প-কারখানার ভিত্তি সম্পূর্ণ এসএমই-নির্ভর

বাজারের গভীরতার দিকে লক্ষ্য করলে এখন মাত্র ৩০৩টি কোম্পানি রয়েছে। দেশের বাজার সম্পূর্ণ ইকুইটি-নির্ভর একটি বাজার। অথচ আরজেএসসির কাছে তিন লাখ কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করা আছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই এসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের কোম্পানি। আগে থেকে বিভিন্ন আইন-কানুন সহজ করার পরও সেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসেনি। অথচ চীনের শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ পুরোপুরি এসএমই কোম্পানি দিয়েই এ পর্যন্ত এসেছে। এছাড়া চীনের শিল্প-কারখানার ভিত্তিটিও সম্পূর্ণভাবে এসএমই-নির্ভর। এ অভিজ্ঞতাটি তাদের থেকে নিয়ে আমাদের বাজারের গভীরতা বাড়াতে পারলে পুঁজিবাজারের চেহারাই পাল্টে যাবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এমডি মাজেদুর রহমান এবং পিডব্লিউসির পার্টনার মামুন রশীদ। অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেন হাসিব হাসান।
মাজেদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয়ে গেল, সে সঙ্গে ২৫ শতাংশ কৌশলগত অংশীদারও পেয়ে গেলাম। এ কাজটি করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের একটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কৌশলগত অংশীদার আনা। আর কৌশলগত অংশীদারের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজার ভালোভাবে গড়ে তোলা। দেশের বাজার এখনও খুব সীমিত আকারে কাজ করছে। আমাদের অর্থনীতি যে হারে বাড়ছে, তার সঙ্গে পুঁজিবাজার এখনও সংগতিপূর্ণ অবস্থানে যায়নি। জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবদান মাত্র ২০ শতাংশ। যা আসলে থাকা উচিত অন্তত ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। সেদিক বিবেচনায় দেশের পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে একটি ভালো অবদান রাখবে। এ উদ্দেশ্য নিয়েই ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের একটি মনস্তাত্ত্বিক ধারণা বাজার ওঠানামা করলেই সেখানে আস্থার বিষয় কাজ করে। কিন্তু এ বিষয়ে যখন কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তখন তারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। মূল্য সংবেদনশীল তথ্যগুলো এখন আমরা যেভাবে একটি কোম্পানি থেকে পেয়ে থাকি এবং তারপর আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করি এটি অনেক সময়সাপেক্ষ হয়ে যায়। এটি সম্পূর্ণভাবেই একটি মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি। এখানে আমরা কিছু সংস্কার করতে যাচ্ছি। তা হলো স্টক এক্সচেঞ্জ ও ইস্যুয়ার কোম্পানির সঙ্গে আমরা একটি যোগসূ০ত্র স্থাপন করব প্রযুক্তির মাধ্যমে। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য যখনই তৈরি হবে, তখনই তারা আমাদের অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠাবে এবং সেটি আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে তাৎক্ষণিক এসে যাবে। এতে কারসাজি বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের বিষয়টি একেবারেই কমে যাবে। কাজেই কৌশলগত অংশীদারের মাধ্যমে অটোমেশন ব্যবহার করে যখন আমরা এ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করতে পারব, তখন দেখা যাবে এ একটি কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের প্রতি আস্থা অনেক বেড়ে যাবে। তাছাড়া বাজারের গভীরতার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমরা এখন মাত্র ৩০৩টি কোম্পানি নিয়ে কাজ করছি এবং শুধু ইকুইটি-নির্ভর একটি বাজার। অথচ আরজেএসসির কাছে তিন লাখ কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন আছে এবং এর বেশিরভাগই এসএমই কোম্পানি। আগে থেকে বিভিন্ন আইন-কানুন সহজ করার পরও তাদের আমরা পুঁজিবাজারে আনতে পারিনি। চীনের শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ পুরোপুরি এসএমই কোম্পানিগুলো দিয়েই এ পর্যন্ত এসেছে। এছাড়া চীনের শিল্প-কারখানার ভিত্তিটিও কিন্তু সম্পূর্ণভাবে এসএমই। কাজেই এ অভিজ্ঞতাটি আমরা তাদের থেকে নিতে চাচ্ছি। আর এ প্রক্রিয়ায় যখন আমরা বাজারের গভীরতাটি বাড়াতে পারব, তখন কিন্তু আস্থাও বাড়বে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের চেহারাও পাল্টে যাবে।
মামুন রশীদ বলেন, পুঁজিবাজারে কৌশলগত অংশীদার আনতে পেরে প্রকৃতপক্ষেই আমি খুব আনন্দিত। এটি আনার জন্য প্রচুর সংগ্রাম করেছি আমরা। ভবিষ্যতে আমরা চাই টেকনোলজি, প্ল্যাটফরম, অপারেটিং প্ল্যাটফরম, বন্ড মার্কেট এবং প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগকারী এনে বাজারকে একটি পর্যায়ে দাঁড় করানো। ১০-২০ বছর যাবৎ পুঁজিবাজারকে যে পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছি, সে পর্যায়ে আমরা কীভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পৌঁছে দিতে পারি, সেটিই এখন পর্যন্ত আমাদের অসমাপ্ত কাজ। আশা করি একটি নির্দিষ্ট সময় পর গিয়ে বাজার এক নতুন ধারায় উন্নীত হবে।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম