চীনের ২৭৯ পণ্যে নতুন করে শুল্কারোপ যুক্তরাষ্ট্রের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আগামী ২৩ আগস্ট থেকে চীনের আরও এক হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের কার্যালয় থেকে ২৭৯টি পণ্যের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। চীনকে বাণিজ্য ছাড়ের ব্যাপারে আলোচনায় বসতে চাপ দেওয়ার কথা বলে গত মাসে তিন হাজর ৪০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন পণ্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে চীন এ সিদ্ধান্তের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসি।
গত ৬ জুলাই ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। পাল্টা উত্তর দেওয়ার হুমকি আসে বেইজিংয়ের তরফেও। চীনের অভিযোগ, ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউ) নিয়মাবলির লঙ্ঘন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যে আরোপিত শুল্ক কার্যকর করার পর চীনও তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকর করেছে।
গত এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশে ইস্পাত আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ১০ শতাংশ করারোপের পরিকল্পনার কথা জানান। শিগগিরই তা কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি। আমদানি শুল্কারোপকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দুই বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন দেখা দেয়। সর্বশেষ এক হাজার ৬০০ কোটি ডলারের তালিকায় চীনের সেমিকন্ডাক্টররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও এসব পণ্যের মূল কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি হয়।
মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয় বলেছে, ‘মেড ইন চায়না’ শিল্প পরিকল্পনার সুবিধা নিয়ে চীন প্রতিযোগিতামূলক উচ্চ প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তাই চীনের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্লাস্টিক, রাসায়নিক ও রেলওয়ে যন্ত্রপাতির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে।
তবে বাণিজ্য দূতের কার্যালয়ের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন-এসআইএ। তারা এ খাতকে শুল্কমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এসআইএ প্রেসিডেন্ট জন নিওফার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, সেমিকন্ডাক্টর আমদানির ওপর শুল্কারোপ করা হলে তা নিশ্চিতভাবে চীনের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের চিপ মার্কেটকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আর এটা চীনের সন্দেহজনক ও বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি থামাতে কিছুই করতে পারবে না।’
মার্কিন বাণিজ্য দূত কার্যালয় থেকে ৪৬ দিনের জনমত ও পর্যালোচনা শেষে মূল তালিকা থেকে অনেক পণ্যের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই পণ্যে করারোপ করা হলে তা ব্যাপক অথনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারতো। এর মধ্যে ছিল শিপিং কন্টেইনার, ভাসমান ফেরিঘাট, কাঠ কাটার মেশিন, হাড় ও শক্ত প্লাস্টিক, খুবই চিকন করে কাটার যন্ত্র ও অল্গানিক এসিড।
সর্বশেষ চীনা পণ্যের তালিকা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হলে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলারের কর বেড়ে যাবে, যা দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে। আর এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দু’দেশের মধ্যে সব পণ্যে শুল্কারোপ করা হতে পারে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। ১৬-১৭ জুলাই বেইজিংয়ে সিনো-ইউরোপীয় সম্মেলন সামনে রেখে ইইউ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এসব বৈঠকে একটি জোট গঠন এবং ব্যবসায়িক সুযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে বেশি করে চীনা বাজার গড়ার প্রস্তাব দেয় বেইজিং।