বিশ্ব বাণিজ্য

চীনে খুচরা পণ্য বিক্রিতে ১৬ বছরের সর্বনিন্ম প্রবৃদ্ধি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের খুচরা পণ্য বিক্রিতে ও শিল্প খাতের উৎপাদনে বিস্ময়কর দুর্বল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে এ তথ্য প্রকাশিত হলো, যা চীনকে আরও চাপে রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: রয়টার্স।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের প্রতিবেদনমতে, এপ্রিলে চীনের খুচরা পণ্য বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক দুই শতাংশ। ২০০৩ সালের পর এটিই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। ২০০৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো দেশটির বিক্রি প্রবৃদ্ধি কমল। গত মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল আট দশমিক সাত শতাংশ। গত মাসের জন্য আট দশমিক ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এদিকে এপ্রিলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাঁচ দশমিক চার শতাংশ। প্রত্যাশার চেয়ে এ প্রবৃদ্ধি কম। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রবৃদ্ধি হবে ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। এ মাসে গাড়ি উৎপাদন কমেছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ। এ সময়ে গাড়ি বিক্রি কমেছে ১৪ দশমিক ছয় শতাংশ। এ নিয়ে টানা ১০ মাস দেশিটতে গাড়ি বিক্রি কমল।
মার্কিন শুল্কের কারণে গত মাসে চীনের রফতানিও কমেছে এবং দেশ ও বিদেশের ক্রয়াদেশও গত মাসে এগিয়েছে মন্থর গতিতে।
দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে আলোচনার মধ্যেই সম্প্রতি আবার পাল্টাপাল্টি শুল্কযুদ্ধে তীব্র হয় বাণিজ্যযুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে চীনের ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক দ্বিগুণ করেছে। অন্যদিকে তিন হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীনও। এতে দুই দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গতকাল বুধবার বেইজিংয়ে ‘ডায়ালগ অব এশিয়ান সিভিলাইজেশন’ নামক সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বিশ্বের সামনে উম্মুক্ত হওয়ার উজ্জ্বল ইতিহাস চীনের আছে এবং ভবিষ্যতে আরও উম্মুক্ত হবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার পর এটি তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতা হলেও বাণিজ্য উত্তেজনা নিয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি; বরং চীনকে সবার কাছে উম্মুক্ত ও হুমকিবিহীন একটি রাষ্ট্র হিসেবে ?উপস্থাপন করেছেন।
চৈনিক সভ্যতা উম্মুক্ত পদ্ধতির’ ছিল এবং তা ধারাবাহিকভাবে বৌদ্ধ ধর্ম, মার্কসবাদ ও ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করেছে এবং তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শি বলেন, ‘আজকের চীন শুধু চীনের নয়, এটি এশিয়ার চীন, এটি বিশ্বের চীন। বিশ্বকে আলিঙ্গন করে নেওয়ার জন্য ভবিষ্যতে চীন আরও উম্মুক্ত অবস্থান গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো দেশই একা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। দেশগুলো আগের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে উঠলে এবং বাকি বিশ্ব থেকে নিজেদের পৃথক করে নিলে সভ্যতা জীবনীশক্তি হারাবে। এশিয়ার দেশগুলোর লোকজন বদ্ধ অবস্থা থেকে দূরে থাকার আশা করে এবং সব দেশই উš§ুক্ততার উদ্দীপনাকে বরণ করবে এবং যোগাযোগ, সংযোগ ও সুষম বাণিজ্যনীতিকে তুলে ধরবে বলে আশা করে।
বক্তৃতায় এসব কথা বললেও চীনকে উš§ুক্ত করার ক্ষেত্রে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানাননি তিনি। শুধু এশিয়াভিত্তিক পর্যটন জোরদার করার পরিকল্পনার প্রস্তাব করেন তিনি, তবে এ বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সর্বশেষ..