চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্বের বড় দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেমিক্যাল আমদানিতে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে চীন। কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়াশিং মেশিন ও সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে ক্ষুব্ধ হয়েই চীন পাল্টা এ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

গতকাল মঙ্গলবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্টাইরিন (এক ধরনের কেমিক্যাল, যা ফোম প্যাকেজিং ও বিভিন্ন প্লাস্টিকে ব্যবহার করা হয়) আমদানিতে ডাম্পিং খুঁজে পেয়েছে। দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে এ পণ্যে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা জরুরি।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন কিলোগ্রাম এ কেমিক্যাল আমদানি করেছে, যার আর্থিক মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এর আগে দেশীয় পণ্যের বিক্রি বাড়াতে বিদেশি ওয়াশিং মেশিন ও সোলার প্যানেল আমদানির ওপর নতুন ‘বিতর্কিত’ ট্যারিফ আরোপে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্য নীতির অধীনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমেরিকা ফার্স্ট নীতির লক্ষ্যই হচ্ছে বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের ব্যবসা রক্ষা করা। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এই ট্যারিফ আরোপের কথা বলে আসছিলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল নির্মাতা দেশ চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওই সিদ্ধান্তের জবাবেই চীন কেমিক্যালে ডাম্পিং বসানোর কথা ভাবছে। এছাড়া গত সপ্তাহে সয়াবিন আমদানিতে ডাম্পিং করার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সয়াবিন রফতানি বাজার চীন।

সদ্য শেষ হওয়া বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এ তথ্যের সুবাদে এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ক্ষেপে যেতে পারেন। এর ফলে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

অভ্যন্তরীণ চাহিদার ফলে চীনে আমদানির পরিমাণ বাড়ায় দেশটির বৈশ্বিক উদ্বৃত্ত কমে যাওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে তাদের উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি পেল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির রফতানি ও আমদানির পার্থক্য বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনায় মুখর। তিনি মনে করেন, এর কারণ হচ্ছে বেইজিংয়ের অন্যায্য নীতি এবং তার ধারণা, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এমনকি একবার তিনি বেইজিংয়ের নীতিকে ‘ধর্ষণ’ বলে আখ্যাও দিয়েছিলেন।

চলতি বছর চীনের মেধাস্বত্ব নীতি অনুসরণ বিষয়ে একটি বড় তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে নতুন করে শুল্ক আরোপ এবং তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির বিরুদ্ধে বড়সড় কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি চীন। তবে ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে চীন ‘ইটের বদলে পাটকেল’ এ রকম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে এটি নিশ্চিত নয়, বর্তমান অবস্থায় চীনের নেতারা কতদিন ধৈর্য ধারণ করবেন।