চীন না ভারত কে হচ্ছে কৌশলগত অংশীদার?

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

চীনের দুটি বড় স্টক এক্সচেঞ্জ শেনঝেন ও সাংহাইয়ের সমন্বয়ে চায়না কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার জন্য আগ্রহী হয়েছে। সেনঝেন ও সাংহাই টার্নওভারের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহৎ দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ। একটি দ্বিতীয় অবস্থানে এবং অপরটি চার নম্বর অবস্থানে আছে। এদের মাসিক টার্নওভার ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে, যার ধারে-কাছেও নেই প্রতিবেশী দেশ ভারত। অথচ শোনা যাচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতও এই সুযোগ নেওয়ার জন্য তোড়জোড় করছে। চীনের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ বাজারে আসবেÑএমন খবরে সবার মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাবে গত রোববার বাজার হঠাৎই অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু গতকাল এই চুক্তিটি চায়নার সঙ্গে না হয়ে ভারতের সঙ্গে হবে। এ ধরনের গুজবে বাজারে ফের পতন নামে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। সাংবাদিক হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের এমডি মো. সাজেদুল ইসলাম।

মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, এক-দেড় মাস ধরে পুঁজিবাজারে যে কোনো তথ্যের ভিত্তিতে পতনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে মুদ্রানীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় দুটি ইস্যু ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে একটি তথ্য জানা গেল যে, শেনঝেন ও সাংহাই চায়নার এ দুটি বড় স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে চায়না কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার জন্য আগ্রহী হয়েছে। সেনঝেন ও সাংহাই টার্নওভারের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহৎ দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ। একটি দ্বিতীয় অবস্থানে এবং অপরটি চার নম্বর অবস্থানে আছে। এদের মাসিক টার্নওভার ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে, যার ধারে-কাছেও নেই প্রতিবেশী দেশ ভারত। অথচ শোনা যাচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতও এই সুযোগ নেওয়ার জন্য তোড়জোড় করছে। চীনের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ বাজারে আসবে, এমন খবরে সবার মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব আমরা গত রোববার লক্ষ করেছিÑবাজার হঠাৎই অনেক বেড়ে গেছে। এখানে এক ধরনের গুজব তৈরি হয়েছে। এই চুক্তিটি চায়নার সঙ্গে না হয়ে ভারতের সঙ্গে হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই এক ধরনের গুজব। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত দলিল বা তথ্য নেই। চায়না যে প্রস্তাব দিয়েছে তার একটি হচ্ছে শেয়ার প্রাইজ, অন্যটি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। শেয়ার প্রাইজের রেট ভারতের থেকে চীনের অনেক বেশি। এছাড়া চীন একটি প্রযুক্তিগত প্রস্তাব দিয়েছে যেরকম কোনো প্রস্তাব ভারতের নেই। আমরা জানি, চীন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। ফলে তারা যদি আমাদের সঙ্গে আসে তাহলে অবশ্যই দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা অনেক বাড়বে এবং বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। কাজেই এই দুটি প্রস্তাব পুঁজিবাজারের জন্য অবশ্যই ভালো। কথা হচ্ছে, বর্তমানে বাজারের যে অগ্রগতি হয়েছে, মানে পৃথিবীর বৃহত্তর দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের যে সমন্বয় দেশের বাজারে হতে যাচ্ছে, সে আনন্দের অংশীদার ডিএসইসি, বিএসইসিসহ আমরা সবাই। এছাড়া তিনি বলেন, আইসিবি তৈরি হয়েছে পুঁজিবাজারকে সহযোগিতা করার জন্য। মানে বাজার যখন অধিক বেড়ে বা কমে যাবে তখন শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। সম্প্রতি একটি খবর শোনা যাচ্ছে যে, আইসিবি ফারমার্স ব্যাংকে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে, কিন্তু এটি তাদের কাজ নয়।

 

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম