মত-বিশ্লেষণ

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধে ভারতের পোয়াবারো

ব্রায়ান পি. ক্লেইন: চীনের রফতানি পণ্যের ওপর মার্কিনদের চাপিয়ে দেওয়া নতুন শুল্ক তালিকার প্রভাব এরই মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বাণিজ্য উপাত্তের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে এ প্রভাব প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে চীনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাদের মার্কেট শেয়ার হারাতে বসেছে। এদিকে আমেরিকান বিভিন্ন কোম্পানিও চীনের সঙ্গে কঠিন দশার মুখোমুখি হতে চলেছে। ফলে এই মার্কিন কোম্পানিগুলো এখন ভারতের দিকে বিকল্প সুযোগ খুঁজতে চেষ্টা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারের স্থান চীনের দখলে, কিন্তু এই অবস্থানটি হয়তো তারা শিগগিরই খোয়াতে চলেছে। এমনকি আমেরিকা যত কিছু আমদানি করত তার সবচেয়ে বড় উৎসও ছিল এই চীন। সব সম্পর্কই এখন খাদের কিনারে। কেননা যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ের ওপর শুল্কতালিকা আরোপ করে ভিন্ন ধাচের আর্থিক সুবিধা বাগিয়ে নিতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানিতে চীনের প্রতিযোগী রাষ্ট্র ছিল মেক্সিকো ও এশিয়ার আরও কিছু দেশ। এই দেশগুলো যখনই দেখল চীনের পণ্য কম ঢুকছে, স্বাভাবিকভাবেই তারা সে জায়গা দখলের পাঁয়তারা খুঁজতে থাকে এবং নিজেদের পণ্য রফতানির হার ঊর্ধ্বশ্বাসে দেখেই পুলোকিত হয়। এই পরিবর্তনের গতিবেগ দাবড়িয়ে চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত বাণিজ্যযুদ্ধ দাঁতাল শুয়োরের মতো গোঁ ধরে চলবে। এমনকি বর্তমানে এটা ভাবার সুযোগও খুব কম যে, নির্দিষ্ট সময় ও পরিসরের পরে এ যুদ্ধ আর এগোতে পারবে না এবং অচিরেই তা থেমে যাবে।
যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সব পণ্যের ওপর থেকে নতুন করে চাপিয়ে দেওয়া এ শুল্কতালিকা তুলে নেন, তবুও এই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগের মতো মধুময় মাখামাখি দশায় ফিরবে না। এটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম-গরম বাক্য-বচনেই ঠাহর করা গেছে। বাণিজ্যযুদ্ধের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে পরিস্থিতি যে কোন গগনে, কোন মুখে দাবড়িয়ে চলেছে তা এরই মধ্যে খোলাসা হয়েছে। শুল্ক আরোপের পরে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানির দিক দিয়ে প্রথম থাকা অবস্থাতেও চীন এই বছরের প্রথমার্ধে ১৪ শতাংশ নেমে আসে। তাতে তাদের রফতানিমূল্য ১২৩ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে ১০৬ বিলিয়ন ডলারে পতিত হয়। আর এটা পাশাপাশি দুটি বছরের একই সময়ের তিন মাসব্যাপী পরিসংখ্যান। পরিসংখ্যানটি এসেছে ইউএস সেনসাস ডেটা থেকে। এটা চীনা ইউয়েনের বিরুদ্ধে মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করে। এমনকি চীনা রফতানি এখানে আরও বেশি সস্তা হয়ে যায়।
এবার আমরা মেক্সিকোর কথায় আসতে পারি। মেক্সিকো ছিল যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানিতে দ্বিতীয় প্রধান রাষ্ট্র। চীনের এই অধঃপতনের দশায় তারা সবচেয়ে বড় অর্জনটাই বাগিয়ে নিয়েছে।
গত দশক ধরে, চীনা প্রস্তুতকারকরা তাদের মার্কেট শেয়ার হারিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি প্রধান খাতের মধ্যে চারটিতেই তাদের এই অধঃপতন দশা দেখতে পাচ্ছি। এই চারটি খাতের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, অ্যাপারেল, খেলনা ও আসবাবপত্র। যুক্তরাষ্ট্রের চমকপ্রদ কম্পিউটার খাতেই রয়েছে মেক্সিকোর ভালো একটি দখল। তারা এই সুযোগে ২০১৮ সালের তুলনায় তাদের রফতানি ৩২ শতাংশ বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে তাদের এই দখল ছিল মাত্র ২১ শতাংশ। সাম্প্রতিক কালে যুক্তারাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার মধ্যে যে সমঝতা হয়েছে বাণিজ্য চুক্তি নামে, তা মেক্সিকোর কারখানাগুলোকে দিয়েছে স্মরণযোগ্য শক্তিশালী সুবিধা ও সুযোগ। আর এই ঘটনাটি ঘটে গেল কেবল তখন, যখন ট্রাম্প চীনের রফতানির ওপর শুল্কতালিকা নতুন করে বসিয়ে দিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও এরই মধ্যে তাদের মার্কেট শেয়ার বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে, বিশেষ করে চীনাদের সেরা সেরা পণ্য খাতের ওপর। ভিয়েতনাম তাদের পণ্য বিক্রিকে তিন গুণে বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষত, অ্যাপারেল ও টেক্সটাইল (পশম বা সুতা ছাড়া) খাতে এই পরিবর্তনটা এসেছে। ২০১০ সালে যে বিক্রিমূল্য ছিল দুই দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তা এখন সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এমনকি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ খাতে তাইওয়ান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম চীনা ফার্মগুলোর বিক্রয় সক্ষমতার ওপর দখলদারিত্ব ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
আমেরিকা যত কম্পিউটার আমদানি করে, তার অর্ধেক অংশ এখনও চীনা ফার্মগুলোর দখলে রয়েছে। অন্যদিকে অন্য দেশের কম্পিউটারও দিনে দিনে তাদের মার্কেট শেয়ারকে বাড়িয়ে নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে যদি বলি তবে তাইওয়ান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার খাতের ২৮ শতাংশ স্থান দখল করে নিয়েছে। এই দশকের শুরুতে তাদের দখল ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ।
যদিও ট্রাম্প ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারিত্বকে ত্যাগ করেছিলেন, তবুুও এই প্রবৃদ্ধিগুলো সম্ভব হলো। একটি চুক্তির মানেই হলো অংশীদার দেশগুলোর ওপর থেকে শুল্ক তালিকার বোঝা নামিয়ে নেওয়া। এটাই হয়তো ভিয়েতনামের রফতানি খাতকে সবচেয়ে বেশি ত্বরান্বিত করেছে। এমনকি ভারতও। ভারত এখানে একটি অনন্য অবস্থান দখল করতে চলেছে। সরবরাহ বলয় পরিবর্তনের ফসল বগলদাবা করতে তারা নিতান্তই বিকল্প পথ অবলম্বন করছে। ফলে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজার বলকে বলকে উথলে উঠছে। ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড অনুসারে, ভারত এরই মধ্যে ফেঁপে ওঠা প্রধান বিশ্ব অর্থনৈতিক দেশে উপনীত হয়েছে। এমনকি আশা করা যায়, তারা হয়তো আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় আট শতাংশে আঘাত হানবে। ২০১৮ সালে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল সাত দশমিক এক শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি পণ্যের মধ্যে জেমস একটি বড় প্রভাব রেখে চলেছে। অন্যদিকে অন্ধ্র প্রদেশসহ দক্ষিণ ভারতের কিছু প্রদেশ এখন মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক প্লান্টের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় মোবাইল ফোন রফতানির পরিসর এখন পর্যন্ত খুবই সামান্য মাত্রায় সীমাবদ্ধ, উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু নয়। কিন্তু তাদের সক্ষমতা দিনে দিনে বাড়ছে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। দক্ষতা স্তরও কোমর সোজা করে দাঁড়াচ্ছে। এমনকি এখানে মোবাইল ফোন উৎপাদন খরচও তুলনামূলকভাবে কম। তাই এর অভ্যান্তরীণ বাজার এখন ফুলে প্রকাণ্ড আকার ধারণ করেছে। এই অভ্যন্তরীণ বাজার হয়তো ভবিষ্যতে রফতানি-সংসৃষ্ট প্রবৃদ্ধিকে ব্যাপকভাবে সহায়তা দেবে।
ভারতের অবকাঠামো প্রকল্পও এখন ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। ভারতের এই অগ্রগতি চীনের মাটিতে অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রীয় কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন নতুন সুযোগ থাকার পরও। একেবারে শূন্য থেকে অমরাবতির মতো প্রদেশগুলোকেও নির্মাণ করা হচ্ছে। অমরাবতিকে সাম্প্রতিক সময়ে অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সবুজ স্থাপত্য, ছোট-খাটো নগর প্রযুক্তি, বিকল্প শক্তি এবং বড় পরিসরের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ইমারাত নির্মাণ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ধারণা করছে যে, প্রদেশগুলোর অটোমেটিভ ও ইলেকট্রনিক্স কারখানাগুলো নিজেরাই পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল রাষ্ট্রের নতুন নতুন কিছু উন্নয়নের মধ্যে ভারতের রাজধানীও রয়েছে। ভারত যে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তরতর করে এগিয়ে চলেছে, এটাই তার প্রমাণ। অথচ একই সময়ে চীনের নিজস্ব অবকাঠামোয় যে খরচ করা হয়েছে, তা এখন চাপের মুখে রয়েছে। মার্কিন নির্মাণ যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারীদের জন্য একটি ভালো খবর যে, চীন যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল, তা এরই মধ্যে ধরা খেয়েছে।
ভারতের রোডঘাটজুড়ে যা কিছু ছিল সমস্যা-সংকটের ছড়ানো-ছিটানো জঞ্জাল, তা-ই হতে চলেছে অর্থনীতির পাওয়ারহাউজ। অভ্যন্তরীণ ঝগড়াটে রাজনীতির প্রভাবে দশকের পর দশক ধরে ভারতের সম্ভাবনাগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। আবার তারা কিন্তু চীনের মতো একদলীয় শাসনব্যবস্থাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে। বন্দরম রাস্তা, রেল ও শক্তি খাত ভারতের আঞ্চলিক উন্নয়নকে ল্যাং মেরে বারে বারে দমিয়ে রেখেছিল। তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রীয় পণ্যের ওপর ভারতের চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত শুল্কের ওপর কড়া দৃষ্টি দিয়েছিল সম্ভাব্য একটি নতুন দোয়ার খোলার উদ্দেশ্যে। আর এটাই এখন তার বাণিজ্যযুদ্ধে পরিণত হতে চলেছে।
ভারতের মাটিতে অর্থনীতি সংস্কারের সহায়তা প্রতিপালিত হচ্ছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাত ধরে। এর বিপরীতে দেখা যাচ্ছে, চীনাদের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ওয়াশিংটনের বাণিজ্য আমলাদের ধাক্কা নিবারণের গদি আগলে বসে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এটা বেইজিংয়ের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিকে দিনে দিনে তেতো করে তুলেছে।
চীনে অবস্থিত আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স তার ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবসা মেজাজ ‘সতর্ক সম্ভাবনাময়ী’ থেকে ‘সতর্ক হতাশাব্যঞ্জক’-এ পরিবর্তিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে সমুদ্র পরিস্থিতির যে পরিবর্তন হয়েছে, তারই একটি আশাব্যঞ্জক জরিপ থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। অথবা বলা যায়, বছরের পর বছর ধরে তারা চীনাদের নিজস্ব কোম্পানির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো নীতি-কৌশলের মুখোমুখি হওয়ার মতো পরিস্থিতিকে এড়িয়ে চলছে। এমনকি জোর করে প্রযুক্তি বদলের ক্ষেত্র থেকেও তারা গা বাঁচিয়ে চলছে।
তারা ভবিষ্যতের অনেক বড় লাভের জন্য ক্ষণিকের ছোট ক্ষতিকে মেনে নিচ্ছে। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারকে চীনের ওপর আরও বেশি আগ্রাসী হওয়ার পথ থেকে নিবৃত্ত করে। ট্রাম্প যেন আরও বেশি সমান্তরাল বাণিজ্য প্রতিযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন, সেজন্য অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ বিরোধীদের ওপর নতুন শুল্কতালিকার খড়্গ বসিয়ে রাখা হয়েছে।
অর্থনীতির প্রয়োজনে মার্কিন আমদানি বাজারে নিজেদের মার্কেট শেয়ারকে পুনরুদ্ধার করতে চীনাদের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনও দিনে দিনে কঠিনতর হয়ে উঠছে। বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাকারীরা মনে করছেন উচ্চ অভ্যন্তরীণ মজুরি দেশের বাইরে নিন্মমানের প্রস্তুতকাঠামোকে উসকে দেবে। যে কাজগুলো ফেলে রাখা হবে, সেগুলো কখনোই আর ফিরে আসবে না। দেশের বাইরে বলতে বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে থাকবে। ফলে চীন রফতানির জন্য তাদের এই বিশাল পরিসরের প্লাস্টিক খেলনা ও বস্ত্র প্রস্তুত করতে পারবে না। এমনকি চীনের মিল কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়েও যদি চিন্তা করা যায়, তবে বলতে হয় মার্কিন আমদানিতে তাদের অবস্থানটি আবার ফিরিয়ে আনার কাজটিও আরও কঠিন হয়ে পড়বে। মার্কিনরা সন্দেহ করছে, চীনারা তাদের মূল্যবান বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করছে। চীনের ওপর মার্কিনদের এই সন্দেহ কেবল চীনা হাই-টেক প্রযুক্তিপণ্যের ওপর উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষ করে চীনাদের নেটওয়ার্কিং যন্ত্রপাতি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও বায়োটেকনোলজি এই সন্দেহের চরম শিকার হবে। অথচ চীনারা তাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য এই খাতগুলোকেই প্রধান খাত হিসেবে লক্ষ্যস্থির করে রেখেছে।
শুল্কতালিকার সঙ্গে চীনাদের যেভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট হয় যে, বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনটাই ঘটতে চলেছে। চীনাদের কষ্ট হলো মার্কিন আমদানি খাতে তাদের জায়গাটি অন্য দেশ দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং তারা দখলও করে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনটা বাণিজ্য সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোই পরিবর্তন করে দেবে এবং আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। প্যাসিফিকের দুই তীর থেকে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে, কিন্তু কিছুই করার নেই অনেক দেরি হয়ে গেছে।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, ডিসিশন অ্যানালিটিকস (এনওয়াইসি-ভিত্তিক কর্মকৌশল ও রাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান)

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট থেকে
ভাষান্তর মিজানুর রহমান শেলী

সর্বশেষ..