চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি বিপজ্জনক হবে

আইএমএফের পূর্বাভাস

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ‘দরিদ্র ও আরও বিপজ্জনক’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। চলতি ও আগামী বছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। খবর বিবিসি।
আইএফএফের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৮ ও আগামী ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি কমে তিন দশমিক সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। গত জুলাইয়ের পূর্বাভাসে সংস্থাটি বলেছিল, চলতি বছর ও আগামী বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে তিন দশমিক ৯ শতাংশ।
মূলত ইউরোজোনের শ্লথ প্রবৃদ্ধি ও উদীয়মান বাজার অর্থনীতির দেশগুলোতে সংকট থাকায় এ প্রবৃদ্ধি কমবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। ব্যাপক মূল্যস্ফীতিতে থাকায় ভেনিজুয়েলা ও আর্জেন্টিনার অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চলতি ও আগামী বছরে বিশ্ব অর্থনীতির অবনতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি। বৈশ্বিক অর্থনীতির ওই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলা বাণিজ্যযুদ্ধ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটা মারাত্মক বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ মাউরি অবসফিল্ড বলেন, যদি নতুন করে কোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে সেটা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ব্যবসা ও বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যনীতির প্রতিফলন হলো রাজনীতি এবং রাজনীতি অনেক দেশে এখন স্বাভাবিক অবস্থায় নেই, যার কারণে ভবিষ্যতে আরও অনেক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব।’
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিশেষ করে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা বাণিজ্য চুক্তির সংশোধন চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটির ৫০ হাজার ডলারের পণ্যের অর্ধেকের ওপরই শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনও পাল্টা হিসেবে প্রায় সমমূল্যের পণ্যে শুল্কারোপ করেছে। সম্প্রতি দেশ দুটির প্রতিনিধিরা সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনায় বসেন, কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। বরং নতুন করে আলোচনায় বসতে নারাজ দুই দেশই। এতে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত তিন দফায় মোট ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ে তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নেয় হোয়াইট হাউজ। এরপর গত মাসে দ্বিতীয় দফায় এক হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়। প্রতিশোধস্বরূপ, পাঁচ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করে চীন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘চীনে মার্কিন প্রযুক্তি ও মেধাসম্পদের অন্যায্য হস্তান্তর’ বন্ধ করতে এবং নিজ দেশে কর্মসংস্থান সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের শুল্কারোপ করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘরোয়া অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করেছেন ট্রাম্প, যা যুগ যুগ ধরে চলতে থাকা বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিপন্থি।
আইএফএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বাণিজ্যযুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতিতে। প্রবৃদ্ধি কমবে দুটি দেশেরই। সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ বলছেন, এই দুই দেশ কোনো সমঝোতায় না গেলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। ২০১৯ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে পাঁচ শতাংশের নিচে, যা এখন ছয় দশমিক দুই শতাংশ।
অন্যদিকে ২০১৯ সালে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে দেড় শতাংশ। এটি চলতি বছরে হতে পারে এক দশমিক চার শতাংশ।