হোম স্থানীয় সংবাদ চুয়াডাঙ্গায় আউশে বাম্পার ফলনের আশা

চুয়াডাঙ্গায় আউশে বাম্পার ফলনের আশা


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমে আউশের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। সেই সঙ্গে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। খবর বাসস।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। বোরো ও আমন ধান চাষের চেয়ে আউশের খরচ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ভাদ্র মাসে গো-খাদ্যের সংকট পূরণ হচ্ছে আউশ ধানের খড়-বিচুলিতে। বোরো ও আমন মৌসুমের মাঝামাঝি আউশ ধান পেয়ে কৃষি পরিবারের ভাতের জোগানও হচ্ছে। এসব বিবেচনায় আউশ আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মৌসুমের আবাদকৃত ধানের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কাটা সম্পন্ন হয়েছে। যার গড় ফলন বিঘাপ্রতি ১৯-২৪ মণ পর্যন্ত। বিভিন্ন মাঠে হাইব্রিড, নেরিকা মিউটেন্ট ও ব্রি ধান ৪৮ আবাদ হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই ব্রি ধান ৪৮।

দামুড়হুদা উপজেলার রামনগর-গোপালপুর মাঠে গোপালপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল হক গত সপ্তায় ধান কেটেছেন। কৃষক আশাদুল হক জানান, বোরো ও আমন মৌসুমে উৎপাদিত ধানের চাল থেকে পরিবারের ভাতের জোগান হয়। চাষের খরচের প্রয়োজনে ধান বিক্রি করতে হয়। এতে প্রতিবছরের শ্রাবণ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত আমার ঘরে অভাব থাকে। তবে ভাদ্র মাসে আউশ ধান উত্তোলনের ফলে অভাব দূর হচ্ছে। অন্যদিকে সম্প্র্রতি বর্ষা মৌসুম যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। মাঠেঘাটে ঘাসের আকাল। তাই কয়েকজন গরু পালনকারী আমার ক্ষেতের ধান কেটে মাড়াই করে দিয়েছেন। বিনিময়ে তারা ধানের বিচুলি নিয়েছে। এতে ধান কাটা ও মাড়াই খরচ বাবদ প্রায় চার হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তবে অনেক কৃষক ধানের বিচুলী তৈরি করেও বিক্রি করছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের কৃষক আনছার আলী দুই বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৪৮ আবাদ করেছেন। তিনি জানান, বিঘাপ্রতি প্রায় ২২ মণ ফলন হয়েছে। কাঁচা অবস্থায় প্রতি মণ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বোরো ও আমন ধানের চেয়ে আউশ ধান আবাদের খরচ তুলনামূলক কম। বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ খরচ সাড়ে সাত হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে বিঘাপ্রতি প্রায় আট হাজার টাকা লাভ পেয়েছেন। ধান মাড়াই করার পর চাতাল মালিকরা কাঁচা অবস্থায় ওজন করে কিনে নিয়েছেন। ফলে ধান শুকানো ও পরিবহন খরচ সাশ্রয় হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান ৪৮। জাতীয় বীজ বোর্ড ২০০৮ সালে রোপা আউশ হিসেবে জাতটি অবমুক্ত করে। জাতের বৈশিষ্ট্য অধিক ফলন, চাল মাঝারি মোটা, ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু। ফলে আর্থিক ও খাদ্য জোগানের ক্ষেত্রে ব্রি-ধান ৪৮ সবার নজর কেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ভারপ্রাপ্ত) উপপরিচালক প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে আস্থা অর্জন করেছে ব্রি ধান ৪৮। হাইব্রিড ও নেরিকা মিউটেন্ট জাতের ধান আবাদ হলেও তা পরিমাণে কম। আউশ ধান আবাদে খাদ্য চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এ ধান আবাদে কৃষকরা খুশি। ফলে গত বছরের চেয়ে এবার আউশ ধান আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।