চুয়াডাঙ্গায় পলিনেট পদ্ধতিতে বেগুন চাষ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামে বিষমুক্ত বেগুন চাষ শুরু হয়েছে। জমির চারপাশ ও ওপরে নেট দিয়ে ঘিরে বেগুন চাষ হচ্ছে। এতে কোনোক্রমেই ক্ষেতে পোকার আক্রমণ হবে না বলে দাবি করেছেন কৃষিবিদরা। এ পদ্ধতিতে কৃষককে বিষ কিনতে হবে না। এ কারণে খরচ কমবে। তবে নেট কিনতে হবে। একবার নেট কিনলে তা চলবে কয়েক বছর, যা ক্ষেতে বিষ প্রয়োগের খরচের চেয়ে কম। এ পদ্ধতির নাম পলিনেট।
সুবদিয়া গ্রামে ৪০ কৃষানিকে নেট দিয়ে ঘেরা স্থানে বেগুনের চারা রোপণের প্রদর্শনী ক্ষেত দেখানো হয়। ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশনের সবজি উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ (এভিপিআই) প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্র (আইএফডিসি) নেট ঘেরা স্থানে বেগুনের চারা রোপণ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
আয়োজকরা জানান, আইএফডিসির পরামর্শ নিয়ে এ গ্রামে কৃষানি নাজমা খাতুন তার বাড়ির পাশের কিছু জমি নেট দিয়ে ঘিরে তাতে বেগুনের চারা রোপণ করেছেন। কিছুদিন পর ওই চারা গাছ একটু বড় হলে তা লাগানো হবে বেগুন চাষের জন্য নির্ধারিত নেট ঘেরা ক্ষেতে। চারা তৈরি থেকে শুরু করে ক্ষেত থেকে বেগুন তুলে আনা পর্যন্ত পুরো সময়টা বেগুন গাছ থাকবে নেট দিয়ে ঘেরা। নেট থাকবে সাদা রঙের। আলো-বাতাস যাওয়া-আসায় কোনো অসুবিধা হবে না। ফলে নেট ঘেরা বেগুন ক্ষেতে কোনোভাবেই পোকার আক্রমণ হবে না। চারা রোপণের শুরু থেকে ক্ষেতের বেগুন তোলা পর্যন্ত কখনোই কোনো ধরনের বিষ প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। বেগুন হবে পুরোপুরি বিষমুক্ত। বিষের ব্যবহার না থাকায় কৃষকের খরচ কমবে। ক্ষেতে ব্যবহৃত নেট কয়েক বছর ব্যবহার করা যাবে। এজন্য নেট ব্যবহারের খরচও খুব বেশি পড়বে না। আশা করা যায়, এ পদ্ধতি এক সময় সব কৃষক অনুসরণ করবেন।
নেট দিয়ে ঘেরা থাকার কারণে বেগুনের চারা হবে সতেজ। ক্ষেতে চারা রোপণ করার পরও তা নিরাপদ ও তরতাজা থাকবে। এ বিষয়টি কৃষানিদের বোঝানোর জন্য নেট ঘেরা জমির পাশে সমপরিমাণ জমিতেও একই সঙ্গে খোলা স্থানে বেগুনের চারা রোপণ করা হয়েছে। ক্ষেত থেকে চারা তুলে মূল জমিতে নেওয়ার সময় কৃষানিরা নিজেরাই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
কৃষানিরা যেন তাদের বাড়িতে থাকা পরিত্যক্ত জমি নেট দিয়ে ঘিরে নিজেরা অন্তত নিজেদের খাওয়ার জন্য বিষমুক্ত বেগুন চাষাবাদ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তালহা জুবাইর মাসরুর, আইএফডিসির ফিল্ড মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ আলমগীর রশিদ ও সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল করিম প্রদর্শনীর সময় উপস্থিত ছিলেন। তখন কৃষানিদের পক্ষে বক্তব্য দেন কৃষানি নাজমা খাতুন।

মফিজ জোয়ার্দ্দার