সারা বাংলা

চুয়াডাঙ্গা লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে সরকারি কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে জেলার সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জেলার সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন সচেতনতামূলক প্রস্তুতি সভা করেছে। ফেনীতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
চুয়াডাঙ্গা: গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বৈঠকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও এনজিও প্রতিনিধিসহ প্রায় সব দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসন জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ খোলা থাকবে। সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও গ্রামগঞ্জে থাকা এনজিও ভবনগুলোও প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
লক্ষ্মীপুর: ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় লক্ষ্মীপুরে বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন সচেতনতামূলক প্রস্তুতি সভা করেছে। ফণী আঘাত হানলেও যেন ক্ষতিরোধ সম্ভব হয় সে লক্ষ্যে সচেতনতার অংশ হিসেবে এ সভা করা হয়।
জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের র্কমর্কতা, পাঁচ উপজেলার উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও সিপিডির কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলবর্তী এলাকায় মাছ ধরার নৌকা ও নৌ-চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। জেলার চর দ্বীপগুলো থেকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মানুষ ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় ৬৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ৩৭৫ টন চাল, দুই হাজার ৫০০ বস্তা বিস্কুট ও নগদ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।
ফেনী: ফেনীতে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী মোকাবিলায় ফেনীতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে ৪৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাঠে রয়েছে ফেনী রেড ক্রিসেন্ট ও সোনাগাজী উপকূলীয় রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা।
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি প্রস্তুতি সভা করা হয়। সভায় জেলায় ৭৩টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে সমুদ্র উপকূলীয় ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ৪৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ২০০ টন চাল, দুই হাজার বস্তা শুকনা খাবার, নগদ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্জন মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ৭৮টি মেডিক্যাল টিম। একটি টিমে চিকিৎসকসহ পাঁচজন করে সদস্য রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। ৭ নং সিগনাল পাওয়ার পর ঘরবাড়ি থেকে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলেদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। উপকূলীয় নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নাম্বার: ০৩৩১-৭৪১৩৩/০১৭১৩-১৮৭৩০৪।
অপরদিকে ‘ফণী’ মোকাবিলায় সোনাগাজীতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুই হাজার ৩৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মাংকিং করা হচ্ছে এবং জনসাধারণকে শুকনো খাবার মজুদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিগনালের প্রতাকা টাঙানো হয়েছে। ৭ নম্বর সিগনাল ঘোষণা করা হলে উপকূলীয় জনসাধারণকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যাবস্থা করা হবে।
তিনি জানান, সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ রেড ক্রিসেন্ট, দমকল বাহিনী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সোনাগাজী টিম লিডার ডা. শান্তি রজ্ঞন কর্মকার জানান, তাদের স্বেচ্চাসেবকরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ শুক্রবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।

সর্বশেষ..