এসএমই

ছাগল পালনে স্বাবলম্বী নোমান

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার অধিবাসী শিবলী নোমান। ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।
নোমান উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে। ২০০১ সালে এসএসসি পাসের পর নানা প্রতিবন্ধকতায় বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা। জীবিকার তাগিদে ডিশ ব্যবসা থেকে কৃষিকাজ এমন অনেক পেশায় জড়িত হন। কিন্তু অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে পারেননি কিছুতেই। এভাবে চলতে চলতে ২০১৬ সাল থেকে শখের বশে শুরু করেন ছাগল পালন।
শিবলী নোমান নিতান্ত শখের বসে
তিন বছর আগে দুটি ছাগল কেনেন।
লালন-পালনের পর অল্প খরচে বেশি লাভের মুখ দেখায় সিদ্ধান্ত নেন ছাগলের খামার গড়ে তুলবেন। যে ভাবনা, তেমনই কাজ; হাট থেকে চারটি ছাগল কেনেন। বসতবাড়ির পাশে গড়ে তোলেন ছাগলের খামার। এরপর নিজেই ছাগলের পরিচর্যা করতে থাকেন। এখন তার খামারে দেশি ও বিদেশি প্রজাতির ১০০টি ছাগল রয়েছে। এর বর্তমান দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
নোমান বলেন, তিন বছর আগে শখের বসে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করি। এক বছরের মধ্যে ছাগল দুটি ছয় মাস পরপর দুটি করে আটটি বাচ্চা দেয়। পরে ছাগলগুলো বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ছাগলের খামার করবেন। এরপর উপজেলা প্রাণী সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ নিয়ে একটি করে যমুনাপাড়ি, তোজাপাড়ি, হরিয়ান ও ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল কিনে মাচাং পদ্ধতিতে খামার গড়ে তোলেন। এখন তার খামারে চার প্রজাতির মোট ১০০টি ছাগল রয়েছে। বাড়ির পাশের পতিত জায়গায় আবাদ করেছেন হাইড্রোপ্রোনিক (মাটি ছাড়া ট্রেতে আবাদ করা ঘাস) ঘাস। এ ঘাস ছাগলের উৎকৃষ্ট মানের খাবার।
ছাগল বছরে দুবার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার প্রজননে একাধিক বাচ্চা দেয়। রোগবালাইও তুলনামূলক কম। বছরে একবার পিপিআর ও গডপক্স ভ্যাকসিন দিলে আর কোনো ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না। তাই অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব। ছাগলের খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয় গম, ভুট্টা ও ছোলাবুটের গুঁড়ো। সে সঙ্গে সয়াবিন ও খড়ের ছানি। খাবারগুলো ছাগলের জন্য খুবই পুষ্টিকর।
বাংলাদেশের বাজারে ছাগলের চাহিদার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ছাগল রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন সম্ভব।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস ছামাদ বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে ওই ছাগলের খামারে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ছাগলের খামার করে নোমানের সফলতা দেখে এখন অনেকে খামার গড়ে তোলার পরামর্শের জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসে আসছেন।

ছামিউল ইসলাম আরিফ, হিলি, দিনাজপুর

সর্বশেষ..