হোম প্রচ্ছদ ছোট মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বেশি

ছোট মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বেশি


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

নিয়াজ মাহমুদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছোট মূলধনি ও পুঞ্জীভূত লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সূচকের উত্থান বা পতন সব সময়েই বড় মূলধনি কোম্পানির তুলনায় দরবৃদ্ধিতে ছোট মূলধনি কোম্পানিগুলো এগিয়ে থাকে। এসব কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম্যে এসব কোম্পানিকে কেন্দ্র করেই হয়। ফলে ছোট মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পাওয়া এমন একাধিক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। অন্যদিকে তদন্ত কমিটি করে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে কাজ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে একাধিক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে যাতে কারসাজি না করতে পারে, সেদিকে সব পক্ষকে নজর রাখার পরামর্শ বাজারসংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘কারণ ছাড়া যখন তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির দর বৃদ্ধি পায় তখন ঝুঁকির সৃষ্টি করে। এতে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের কবলে পড়তে পারেন। যদিও এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে কেউ কেউ স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করে থাকে। তবে এর পরিমাণ সীমিত। এখানে লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কাই বেশি।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজের মতে, স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর অধিকাংশ লোকসানে। কিন্তু একদিকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার সংখ্যা কম, অন্যদিকে এর চাহিদা বেশি। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিরীক্ষকদের (অডিটর) জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে তারা কোনো ভুল কিছু সমর্থন করতে না পারে এবং এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব এইচ মজুমদার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ইদানীং কিছু জাঙ্ক কোম্পানির শেয়ারের দরও বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ও লোকসানের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এমতাবস্থায় শেয়ারদর বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে গতানুগতিকভাবে তথ্য প্রকাশ না করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।’

অস্বাভাবিক শেয়ারদর বাড়ার কারণের বিষয়ে একাধিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ বলছে, শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। এ বিষয়ে হাক্কানি পাল্পের কোম্পানিসচিব মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘শেয়ারের দর বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ জানা নেই। বাইরের কেউ যদি কৃত্রিমভাবে এর দর বাড়িয়ে থাকে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

এদিকে অস্বাভাবিকভাবে শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া প্রায় দুই ডজন কোম্পানির মধ্যে চারটি নিয়ে ডিএসই কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তথ্য প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তিন কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে। কোম্পানিগুলো হলো বিবিএস কেবল্স, মন্নু সিরামিক ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক।

সম্প্রতি অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ কোম্পানিই দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনছে। এসব কোম্পানি থেকে বছরের পর বছর কোনো লভ্যাংশ পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

শেয়ারপ্রতি লোকসানে তবু শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে জিলবাংলা সুগার, সমতা লেদার, ইমাম বাটন, জুট স্পিনার্স, শ্যামপুর সুগার, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, আজিজ পাইপস, বিডি ওয়েল্ডিং, দুলামিয়া কটন, হাক্কানি পাল্প, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পিইটি, ঢাকা ডায়িং, তাল্লু স্পিনিং, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, শাইনপুকুর সিরামিক, খুলনা প্রিন্টিং, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এটলাস বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল টিউবস।

জিলবাংলা সুগারের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তিন প্রান্তিক বা ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান ২৬ দশমিক ৯৮ টাকা। লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা। অথচ বছরের বেশিরভাগ সময় এ কোম্পানিটির শেয়ারও দরবৃদ্ধির দাপট দেখাচ্ছে। এক বছর আগে শেয়ারটির দর ১৫ টাকার নিচে ছিল। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই টানা দর বাড়তে থাকে। বর্তমানে শেয়ারটি প্রায় ৬২ টাকারও বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

সমতা লেদার টানা তিন বছর ধরে লোকসানে রয়েছে। অথচ কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। যার কারণ অনুসন্ধানে নেমে স্টক এক্সচেঞ্জ দর বাড়ার মতো কোনো তথ্য পায়নি।

‘জেড’ ক্যাটাগরির ইমাম বাটন ধারাবাহিকভাবে লোকসান করে যাচ্ছে। লোকসান কাটাতে কোনো উদ্যোগও নেই। তবু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

শ্যামপুর সুগারের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তিন প্রান্তিক শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৩.৬২ টাকা। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করছে বছরের পর বছর। অথচ বছরের বেশিরভাগ সময় এ কোম্পানিটি শেয়ারের দরবৃদ্ধির দাপট চলছে। এক বছর আগে শেয়ারটির দর ১১ টাকার নিচে ছিল। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই টানা দর বাড়তে থাকে। বর্তমানে শেয়ারটি প্রায় ৩০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক তালিকাভুক্তির পর থেকেই লোকসানে রয়েছে। লোকসান থেকে কখনও বের হতে পারেনি। কোনো বছর লোকসান বাড়ছে, কোনো বছর কমছে। কিন্তু লোকসানের আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এর শেয়ারপ্রতি লোকসান ২.৭৬ টাকা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩.১৬ টাকা।

একই অবস্থা মেঘনা পিইটির। কোম্পানিটির ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তিন প্রান্তিক শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.৩০ টাকা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ০.২৮ টাকা। পুঁজিবাজারে আসার পর কখনও লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তারপরও কোম্পানিটির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও লোকসান গুনেছে। সবশেষে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয় ১০৯.৬০ টাকায়। যে দরের কোনো কারণ খুঁজে পায়নি স্টক এক্সচেঞ্জ।

এছাড়া আজিজ পাইপস, বিডি ওয়েল্ডিং, দুলামিয়া কটন, বেক্সিমকো সিনথেটিকস ও শাইনপুকুর সিরামিক লোকসানে থাকার পাশাপাশি লভ্যাংশ দিতে পারছে না। তবে লোকসানে থাকা হাক্কানি পাল্প, ঢাকা ডায়িং, তাল্লু স্পিনিং, খুলনা প্রিন্টিং, এটলাস বাংলাদেশ, ন্যাশনাল টিউবস ও অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ গত বছরে লভ্যাংশ দেয়।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোকে ঘিরে কারসাজির প্রবণতা বেশি থাকে। কারণ কোম্পানিগুলোর মূলধন কম। ফলে মাঝেমধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। গুজব ছড়িয়ে কারসাজি চক্র শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দেয়। কারসাজি চক্রের ফায়দা হাসিল হয়ে গেলে তারা শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যায়।