ছয় বছরে অনলাইন ব্যাংকিং বেড়ে ৯ গুণ

মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ: অনলাইন ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়েই বেড়ে চলছে এ মাধ্যমে লেনদেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। গত ছয় বছরে দেশে অনলাইন ব্যাংকিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সময় অনলাইন মাধ্যমে লেনদেন বেড়ে নয় গুণ হয়েছে। আরও কিছু সেবা বাড়ানো গেলে সামনের দিনগুলোতে এর ব্যাপকতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১১ সালে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে লেনদেন হয়েছে মোট ৪১ দশমিক ছয় বিলিয়ন টাকা। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন টাকা। এ হিসাবে ছয় বছরে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন বেড়ে আট দশমিক ৭৭ গুণ হয়েছে। প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এ মাধ্যমে লেনদেন। এর মধ্যে ২০১২ সালে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৪৮ দশমিক সাত বিলিয়ন টাকা, ২০১৩ সালে ৯০ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন, ২০১৪ সালে ২১৭ দশমিক তিন বিলিয়ন, ২০১৫ সালে ২৫৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ও ২০১৬ সালে হয়েছে ৩২২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সহযোগী অধ্যাপক মো. শিহাব উদ্দীন খান শেয়ার বিজকে বলেন, দেশে দিন দিন অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, প্রসারতাও বাড়ছে। তবে একটা শ্রেণির মানুষ এখনও এ বিষয়ে ভীত। তারা আসলে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী হয় না। তাদের অনলাইন ব্যাংকিংয়ে যুক্ত করতে পারলে এর ব্যাপ্তি আরও বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রমকেই অনলাইন ব্যাংকিং বলে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একজন গ্রাহক ঘরে বসেই যে কোনো সময় তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারেন। অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য গ্রাহককে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের ৭৪ শতাংশ ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিংয়ের সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক অন্যতম। ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪২ হাজার, দিন দিন যা বেড়েই চলছে। আর কেবল ২০১৭ সালেই অনলাইন ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছে ৭২ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি।

এসব লেনদেনের বেশিরভাগটাই হয় টাকা পাঠানোর কাজে, কারণ অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই দেশ-বিদেশ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করানো যায়। এছাড়া একই ব্যাংকের এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে সহজেই টাকা স্থানান্তর করা যায়। সেইসঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ইউটিলিটির বিল পরিশোধও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করা যায়। এছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট থেকে কোনো পণ্য কিনে অনলাইনে পেমেন্টও করতে পারেন গ্রাহক।

তবে এখনও কিছু সেবায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন গ্রাহকের ক্রেটিড কার্ড থেকে নিজ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর সেবাটি এখনও সব ব্যাংক চালু করেনি, কিছু ব্যাংকে চালু রয়েছে। এছাড়া এর মাধ্যমে কোনো গ্রাহক তার ক্রেডিট কার্ডের সব তথ্য দেখতে বা জানতে পারেন না। এক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের সুযোগও নেই। সেইসঙ্গে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তথ্যও পাওয়া যায় না।